ভারতের আর্থিক বাজার এবং ঋণগ্রহীতাদের নজর এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তিন দিনের মুদ্রানীতি কমিটি বৈঠকের দিকে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সিদ্ধান্ত শুক্রবার ঘোষণা করবেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা।
2
9
ছয় সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটি দেশের মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং সুদের হার সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
3
9
যদিও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেড়েছে, তবুও অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞ মনে করছেন আরবিআই এবার রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন আনবে না। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ানোর পরিবর্তে বর্তমান অবস্থাই বজায় রাখতে পারে।
4
9
রেপো রেট হল সেই হার, যে হারে আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। এই হার পরিবর্তিত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হোম লোন, ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের উপর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খরচের ধরণ ও বাজারে নগদের প্রবাহও প্রভাবিত হয়।
5
9
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মুদ্রানীতি বৈঠকে আরবিআই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তার ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ নীতিগত অবস্থানও বজায় রাখে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, টাকার উপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরবিআই কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
6
9
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে আরবিআই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে এবং ঋণের খরচ স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সতর্ক অবস্থানই নেবে।
7
9
যদি রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে হোম লোন ও অন্যান্য ঋণের ইএমআই-তে তাৎক্ষণিক কোনও বৃদ্ধি হবে না। এতে বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ঋণগ্রহীতারা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে বাজারে ঋণ গ্রহণের খরচ স্থিতিশীল থাকবে।
8
9
তবে বিনিয়োগকারীদের কাছে শুধুমাত্র সুদের হার ঘোষণাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা আরবিআই-র মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে মূল্যায়ন, টাকার বিনিময় হার এবং বিশ্বের ঝুঁকি নিয়ে কী বলেন সেদিকে বিশেষ নজর রাখবে। কারণ ভবিষ্যতে সুদের হার কোন দিকে যেতে পারে, তার ইঙ্গিত এই বক্তব্য থেকেই মিলতে পারে।
9
9
শুক্রবারের নীতিগত ঘোষণা আগামী কয়েক মাসে ভারতের অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ সম্পর্কে আরবিআই-র দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করবে। ফলে বাজার, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ঋণগ্রহীতা—সবার নজর এখন আরবিআই-র সিদ্ধান্তের উপর।