আষাঢ় মাস এলেই বাংলার আকাশে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তির আবেশে শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুধু ওড়িশাতেই নয়, দেশজুড়ে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
2
9
২৯ জুন জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার মাধ্যমেই সেই উৎসবের শুরু৷ স্নানযাত্রার পর প্রভু জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার সঙ্গে অনসরকাল কাটান৷ ১৫ দিন সেবা আর বিশ্রামের পর সুস্থ হয়েই মাসির বাড়ি বেড়াতে যান জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা৷
3
9
প্রভু শ্রী জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাত্রা করাই শুভ রথযাত্রা৷ ঢাক ঢোল কাঁসর ঘণ্টা সহযোগে
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে মহা সমারোহে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা৷ এটাই সোজারথ৷
4
9
জগন্নাথদেব মাস্যার বাড়ি থেকে সাতদিন পর যখন ফিরে আসেন সেটিই উলটোরথ নামে পরিচিত৷ কথিত আছে রথের দড়ি টানলে, রথের চাকা স্পর্শ করলে জীবনের পথ মসৃণ হয়৷ জীবনে বাধা বিপত্তি দূর হয়৷
5
9
২০২৬ সালের সোজারথ বা রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয়া তিথি শুরু হবে ১৫ জুলাই বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ জুলাই সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই রথযাত্রার প্রধান ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হবে।
6
9
রথযাত্রার কয়েকদিন পর হয় উল্টোরথ বা বাহুড়া যাত্রা। এই দিনে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা আবার মূল মন্দিরের দিকে ফিরে আসেন। ২০২৬ সালে উল্টোরথ পালিত হবে ২৪ জুলাই, শুক্রবার।
7
9
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দিন ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের নাম স্মরণ করলে জীবনের বাধা দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। অনেকেই এই দিনে রথের দড়ি টানাকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করেন। বাড়িতেও অনেকে ছোট রথ সাজিয়ে পুজো করেন এবং প্রসাদ নিবেদন করেন।
8
9
তবে এই যাত্রায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা একা থাকেন না। তিনটি পৃথক রথে তাঁদের সঙ্গে থাকেন বিশেষ দেব-দেবীরা। জগন্নাথদেবের রথে অবস্থান করেন মদনমোহন, বলরামের রথে থাকেন রামকৃষ্ণ এবং সুভদ্রার রথে থাকেন সুদর্শনা।
9
9
রথযাত্রার শুভ সময়ে অনেক ভক্ত নতুন কাজ শুরু, দান-ধ্যান ও বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন। জগন্নাথদেবের এই মহোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানুষের মিলন, ভক্তি এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন।