কাগজের নোটের দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? বিশ্বজুড়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে প্লাস্টিক বা ‘পলিমার’ ব্যাংকনোট। প্রথাগত কাগজের নোটের পরিবর্তে এক বিশেষ ধরনের টেকসই পলিমার উপাদান দিয়ে তৈরি এই নোটগুলি সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই, জল ও ময়লারোধক এবং জাল করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের অর্থনীতিতে এই প্লাস্টিক মুদ্রার ব্যবহার শুরু করেছে।
2
10
উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের সমস্ত কাগজের নোট বাতিল করে সম্পূর্ণভাবে পলিমার নোটে স্থানান্তরিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৯০-এর দশকে সম্পূর্ণ পলিমার নোটের প্রচলন শুরু করে।
3
10
এরপর কানাডা, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, পাপুয়া নিউ গিনি, মলদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, নিকারাগুয়া, ভানুয়াতু, পূর্ব ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাজ্য এবং বার্বাডোস তাদের সমস্ত প্রচলিত নোট প্লাস্টিকে রূপান্তরিত করেছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালে ওমানও ১ রিয়ালের নতুন পলিমার নোট বাজারে এনে এই তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।
4
10
সম্পূর্ণ রূপান্তর না করলেও, বিশ্বের বহু দেশ নির্দিষ্ট কিছু মূল্যের নোটের জন্য প্লাস্টিক মুদ্রা ব্যবহার করছে। এশিয়ার সিংহভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ এই তালিকায় রয়েছে।
5
10
সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, হংকং, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলি নির্দিষ্ট মূল্যের নোটে পলিমার ব্যবহার করছে।
6
10
এছাড়া নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, চিলি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইসরায়েলের মতো দেশগুলিতেও আংশিকভাবে বা স্মারক নোট হিসেবে প্লাস্টিক মুদ্রার লেনদেন দেখা যায়।
7
10
ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক এখনও দেশে পুরোপুরি প্লাস্টিক নোটের প্রচলন করেনি, তবে এই প্রযুক্তি গ্রহণে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আরবিআই ১০ টাকার পলিমার নোটের পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক পরীক্ষা চালিয়েছিল।
8
10
রিজার্ভ ব্যাংক খুব শীঘ্রই ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট দিয়ে প্লাস্টিক মুদ্রার দ্বিতীয় দফার বড় ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে। সারা দেশে একযোগে প্লাস্টিক নোট চালু করার কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না হলেও, ধীরে ধীরে এই পথেই এগোচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
9
10
প্লাস্টিক বা পলিমার নোটের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রধান কারণ হল এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা। কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট গড়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি সময় টিকে থাকে।
10
10
এতে স্বচ্ছ উইন্ডো, বিশেষ ধরনের কালির ব্যবহার এবং জটিল ডিজাইনের সুরক্ষাবলয় থাকে, যা জাল করা অত্যন্ত কঠিন। জল, ঘাম বা ধুলোবালি সত্ত্বেও এই নোট নষ্ট হয় না। এর ফলে নোট পুনর্মুদ্রণের বিশাল খরচ বেঁচে যায়, যা দেশের অর্থনীতির ওপর থেকেও বাড়তি চাপের বোঝা কমায়।