কেন্দ্রের একটি বিবৃতি আর তাতেই বিভ্রান্তি চরমে উঠেছে। বুধবার ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’-এর ১৪তম বার্ষিকীতে বিদেশ মন্ত্রক জানায় যে, পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।
2
15
মন্ত্রক জানিয়েছে, পাসপোর্ট কেন্দ্রের দ্বারা জারি করা একটি ভ্রমণের অনুমতির নথি। যা থাকলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজ হয়। কিন্তু পাসপোর্ট থাকলেই কেই এই দেশের নাগরিক বলে গণ্য হবেন না।
3
15
এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল আধার কার্ড নাগিরকত্বের প্রমাণ নয়, কেবল পরিচয়পত্র। ভোটার কার্ড কেবল ভোটাধিকার দেয় এবং পরিচয় এবং বাসস্থানের প্রমাণপত্র। এরপরেই বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ তাহলে কী?
4
15
নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে এবং ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয়।
5
15
আর ১৯৮৭ সালের জুলাইয়ের পরে জন্মগ্রহণকারী কোনও ব্যক্তি নাগরিকত্বের দাবি করতে পারেন যদি তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিক হন।
6
15
২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের দাবি তখনই করা যাবে, যদি বাবা-মা উভয়েই ভারতীয় হন অথবা বাবা-মায়ের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং অন্যজন জন্মের সময় অবৈধ অভিবাসী না হন।
7
15
নেটিজেনদের প্রশ্ন, বিস্তারিত নথি যাচাই, পুলিশ ভেরিফেকেশনের পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তাহলে সেটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় কেন?
8
15
বিতর্কের নিরসনে কেন্দ্রের যুক্তি, ‘পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৭’-এর ধারা ২০ কেন্দ্রকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ-নাগরিকদের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ইস্যু করার ক্ষমতা দেয়।
9
15
ধারায় বলা হয়েছে, “পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নিয়ম যাই থাকুক না কেন, কেন্দ্র যদি মনে করে যে জনস্বার্থে প্রয়োজন, তবে সরকার ভারতের নাগরিক নন এমন কোনও ব্যক্তিকে পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান করতে বা প্রদান করানোর ব্যবস্থা করতে পারে।”
10
15
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্র নিজের যুক্তির স্বপক্ষে ২০১৩ সালের বম্বে হাই কোর্টের একটি রায়কেও তুলে ধরেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, যোগ্যতা এবং সহায়ক প্রমাণের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হয়।
11
15
বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাসপোর্ট ভ্রমণ নথি, নাগরিকত্বের নথি নয়। তাহলে কোন নথিটি নাগরিকত্বের প্রমাণ? বিএলও আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করতে পারে, আমাকে আমার ভোট থেকে বঞ্চিত করতে পারে, ফলস্বরূপ বিজেপি নির্বাচনে জিতবে, এবার সুপ্রিম কোর্টের হাতে সব কিছু!”
12
15
গীতিকার জাভেদ আখতারও বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে মন্ত্রক অভারতীয় নাগরিকদেরও পাসপোর্ট দিচ্ছে কিনা।
13
15
সমালোচকদের কটাক্ষ করেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “বিদেশ মন্ত্রক নতুন কোনও নিয়ম জারি করেনি। বিবৃতিতে কেবল কেবল একটি প্রতিষ্ঠিত আইনি অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।”
14
15
এই বিতর্ককে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বিজেপি নেতা আরও লিখেছেন, “পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ও ভ্রমণ নথি। এটি এমন একটি প্রমাণ যা নাগরিকত্বের দাবিকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু নাগরিকত্ব আসে সংবিধান ও নাগরিকত্ব আইন থেকে, কোনও একটিমাত্র সরকারি নথি নিজের কাছে রাখার মাধ্যমে নয়।”
15
15
তিনি আরও দাবি করেন যে, ভারতে জন্মের শংসাপত্র, ভোটার তালিকা, স্কুল রেকর্ড, সরকারি চাকরির রেকর্ড, বাসস্থানের নথি এবং পাসপোর্ট-সহ বিভিন্ন নথিপত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।