মানুষের মহাকাশ অভিযানের পরিধি যত বাড়ছে, ততই নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে—মহাকাশে কি মানুষের প্রজনন সম্ভব? পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে যে প্রক্রিয়ায় প্রজনন ঘটে, মহাকাশে সেই একই নিয়ম কাজ নাও করতে পারে।
2
10
বিশেষ করে শুক্রাণুর আচরণ বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মহাকাশের ভিন্ন পরিবেশে শুক্রাণু ঠিকমতো “সহযোগিতা” করতে পারে না।
3
10
প্রথমত, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি বা প্রায় শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বড় বাধা। পৃথিবীতে শুক্রাণু ডিম্বাণুর দিকে সাঁতার কাটে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে, যা মাধ্যাকর্ষণ ও তরলের স্বাভাবিক প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
4
10
কিন্তু স্পেস স্টেশনের মতো পরিবেশে এই মাধ্যাকর্ষণ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে শুক্রাণুর চলাচল অনিয়মিত হয়ে যায় এবং লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
5
10
দ্বিতীয়ত, মহাকাশে তরলের আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা। পৃথিবীতে শরীরের তরল যেমন নির্দিষ্টভাবে প্রবাহিত হয়, মহাকাশে তা ভাসমান অবস্থায় থাকে। এতে শুক্রাণুর ডিম্বাণুর দিকে পৌঁছানোর পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই অস্বাভাবিক তরল গতি প্রজনন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে।
6
10
তৃতীয়ত, মহাজাগতিক বিকিরণ একটি বড় ঝুঁকি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আমাদের এই ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, কিন্তু মহাকাশে সেই সুরক্ষা নেই। ফলে শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নাসার গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকা শুক্রাণুতে সূক্ষ্ম জেনেটিক ক্ষতি হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
7
10
এছাড়াও, মহাকাশে মানুষের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে প্রজননের সামগ্রিক সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
8
10
তবে সমস্যাটা শুধু শুক্রাণুতে সীমাবদ্ধ নয়। যদি নিষেক সফলও হয়, তবুও ভ্রূণের বিকাশ একটি বড় প্রশ্ন। ভ্রূণের প্রাথমিক কোষ বিভাজন এবং অঙ্গ গঠন মাধ্যাকর্ষণের উপর নির্ভর করতে পারে। মহাকাশে এই প্রক্রিয়া ঠিকমতো হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাব কী হবে, সেটাও অজানা।
9
10
ভবিষ্যতে স্পেস এক্সের মতো সংস্থাগুলি যখন মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, তখন এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদি মানুষ দীর্ঘদিন মহাকাশে বসবাস করতে চায়, তাহলে নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
10
10
সব মিলিয়ে বলা যায়, মহাকাশে শুক্রাণু “সহযোগিতা” না করার মূল কারণ হল ভিন্ন পরিবেশ—মাইক্রোগ্রাভিটি, বিকিরণ এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। এই চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে ওঠা এখনও বিজ্ঞানীদের জন্য বড় লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও গবেষণাই জানাবে, মহাকাশে মানুষের নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা আদৌ সম্ভব কি না।