মাসের শুরুতেই বেতন শেষ হয়ে যায়? ৫০-৩০-২০ নিয়ম মেনে চলুন, খরচ সামলে সঞ্চয়ও হবে, জেনে নিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯ : ৪০
শেয়ার করুন
1
12
মাসের শুরুতে বেতন অ্যাকাউন্টে ঢোকে। তারপর একে একে বাড়িভাড়া, EMI, বাজার, বিদ্যুৎ, যাতায়াত, মোবাইল বিল থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং, রেস্তরাঁয় খাওয়া—সব খরচ হতে থাকে।
2
12
মাসের শেষ সপ্তাহে এসে অনেকেরই মনে হয়, টাকা গেল কোথায়? সঞ্চয়ের কথা মনে থাকলেও তখন আর হাতে বিশেষ কিছু থাকে না।
3
12
এই সমস্যার সমাধান করতে পারে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জন ৩০-৫০-২০ বাজেটিং রুল মেনে চলতে পারেন। বেতনের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০ শতাংশ নিজের ইচ্ছামতো খরচ এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়।
4
12
প্রথমেই বেতনের অর্ধেক আলাদা করে রাখুন এমন খরচের জন্য, যা না করলেই নয়। যেমন—বাড়িভাড়া বা হোম লোনের EMI, বাজার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল, যাতায়াতের খরচ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ, বিমার প্রিমিয়াম।
5
12
ধরুন, আপনার মাসিক হাতে পাওয়া বেতন ৫০,০০০ টাকা। এই নিয়ম অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা প্রয়োজনীয় খরচের জন্য রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় খরচের তালিকায় এমন কোনও জিনিস ঢুকিয়ে ফেলবেন না, যা আসলে আপনার ‘শখের খরচ’
6
12
জীবনে শুধু প্রয়োজনীয় খরচ আর সঞ্চয় করলেই তো হবে না। নিজের পছন্দের জিনিস, ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া, সিনেমা দেখা কিংবা OTT সাবস্ক্রিপশনের মতো খরচেরও জায়গা থাকা দরকার। এই ধরনের শখের খরচের জন্য রাখুন ৩০ শতাংশ টাকা৷ অর্থাৎ বেতনের ১৫ হাজার টাকা থাক শখের জন্য৷
7
12
তবে ৩০ শতাংশ মানে এই নয় যে পুরো টাকাটাই খরচ করতেই হবে। মাসে খরচ কম হলে বেঁচে যাওয়া অর্থ সঞ্চয় বা অন্য আর্থিক লক্ষ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।২০ শতাংশ অবশ্যই রাখুন সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের জন্য।
8
12
এই নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল শেষের ২০ শতাংশ। অর্থাৎ বেতন হাতে পাওয়ার পর মাসের শেষে যা বাঁচবে তা সঞ্চয় করার বদলে, শুরুতেই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা করে রাখার চেষ্টা করুন। ৫০,০০০ বেতন হলে লক্ষ্য হতে পারে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করতেই হবে৷
9
12
এটিকে একটি গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করাই ভাল। বড় শহরে বাড়িভাড়া বা EMI-ই যদি বেতনের বড় অংশ নিয়ে নেয়, তাহলে ৫০ শতাংশের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় খরচ রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। ভারতীয় পরিবারের ক্ষেত্রে পারিবারিক দায়িত্ব, সন্তানের পড়াশোনা বা চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত খরচও থাকতে পারে।সেক্ষেত্রে নিয়মটি হুবহু অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই।
10
12
প্রয়োজন হলে ৬০-২০-২০ বা নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কোনও অনুপাত বেছে নেওয়া যেতে পারে। আসল লক্ষ্য হল, প্রয়োজনীয় খরচের হিসাব জানা, ইচ্ছার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত সঞ্চয় করা।
11
12
সঞ্চয়ের টাকা বেতনের পরেই আলাদা করুনমাসের শেষে যা থাকবে, তা সঞ্চয় করব—এই পদ্ধতিতে অনেক সময় সঞ্চয় আর হয় না। বরং বেতন ঢোকার পরেই নির্দিষ্ট অঙ্ক অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে রাখা বা নির্ধারিত বিনিয়োগে দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা যায়।
12
12
প্রথমে নিজের প্রয়োজনীয় মাসিক খরচের হিসাব করুন। তারপর কোথায় অপ্রয়োজনীয় টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটি দেখুন। কয়েক মাসের খরচের হিসাব রাখলেই বোঝা যাবে কোন বিভাগে বেশি টাকা চলে যাচ্ছে।