বর্ষার আগমন হতেই ভারতের বেশিরভাগ জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মূল ফটকগুলো পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। মূলত পশু-পাখিদের প্রজনন ঋতু এবং জঙ্গলের ভেতরে যাতায়াতের রাস্তার বেহাল দশার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
2
9
তবে বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও জঙ্গল সাফারির অন্ধ ভক্তদের জন্য সুখবর হল, বর্ষায় জঙ্গল ভ্রমণের আনন্দ কিন্তু পুরোপুরি মাটি হওয়ার কোনও কারণ নেই।
3
9
কারণ ভারতের হাতেগোনা কয়েকটি টাইগার রিজার্ভ এবং ন্যাশনাল পার্কের কিছু নির্দিষ্ট ‘বাফার জোন’ (বা পর্যটন এলাকা জুলাইয়ের ভরা বর্ষাতেও খোলা থাকে।
4
9
মেঘ-বৃষ্টির খেলায় এই সময়ে জঙ্গল সেজে ওঠে এক অপূর্ব সবুজ মায়াবী রূপে। কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা আর বর্ষার সতেজ অরণ্যে সাফারির রোমাঞ্চ নিতে এই জুলাইয়েই আপনি ঘুরে আসতে পারেন নিচের ৫টি জাতীয় উদ্যানে:
5
9
১. তাডোবা আন্ধারি টাইগার রিজার্ভ, মহারাষ্ট্র
মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলায় অবস্থিত এই টাইগার রিজার্ভটি বর্ষাকালে বাঘ দেখার জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য। জুলাই মাসের বর্ষাতেও এই জঙ্গলের নাভেগাঁও, মোহরলি এবং কোলারা জোন পর্যটকদের সাফারির জন্য খোলা থাকে।
প্রধান বন্যপ্রাণী: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লেপার্ড , স্লথ বিয়ার, ঢোল (বুনো কুকুর) এবং গৌড় (ইন্ডিয়ান বাইসন)।
বিশেষ আকর্ষণ: বর্ষার তাজা সবুজ গাছপালার ব্যাকগ্রাউন্ডে বন্যপ্রাণীদের ছবি তোলার জন্য এই সময়টি ফটোগ্রাফারদের দারুণ পছন্দের।
6
9
২। পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র
রডইয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত ‘দ্য জঙ্গল বুক’ -এর পটভূমি এই পেঞ্চ ন্যাশনাল পার্ক। মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের সীমানা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কের টুরিয়া এবং খামাসা বাফার জোন বর্ষাকালে খোলা থাকে।
প্রধান বন্যপ্রাণী: বাঘ, লেপার্ড, বুনো শুয়োর, সম্বর হরিণ এবং সিভেট ক্যাট (ভাম বিড়াল)।
বিশেষ আকর্ষণ: জুলাই মাসে কুয়াশায় ঢাকা সবুজ অরণ্য এবং নতুন উদ্ভিদের সমাহার এই পার্কের সৌন্দর্যকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
7
9
৩. সাতপুরা জাতীয় উদ্যান, মধ্যপ্রদেশ
যারা একটু শান্ত, নিরিবিলি এবং ভিড়ভাট্টাহীন পরিবেশে গভীর প্রকৃতির স্বাদ নিতে চান, তাঁদের জন্য সাতপুরা আদর্শ। বর্ষার মরসুমে এই পার্কের মাধাই বাফার জোনটি পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।
প্রধান বন্যপ্রাণী: স্লথ বিয়ার, কুমির, ভারতীয় জায়ান্ট স্কুইরেল, ধনেশ পাখি (হর্নবিল) এবং ভাগ্য ভাল থাকলে বাঘের দেখাও মিলতে পারে।
বিশেষ আকর্ষণ: এটি ভারতের অন্যতম কম ভিড়ের জঙ্গল হওয়ায় এখানে প্রকৃতির এক অদ্ভুত শান্ত রূপের অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।
8
9
৪. দুধয়া জাতীয় উদ্যান, উত্তর প্রদেশ
ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুধুয়া জাতীয় উদ্যান। জুলাইয়ের বর্ষার দিনে এই পার্কের কিষাণপুরের মতো সীমিত কিছু বাফার এলাকায় আংশিক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
প্রধান বন্যপ্রাণী: বাঘ, এশিয়ান হাতি, সোয়াম্প ডিয়ার এবং হরেক রকমের পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখি।
বিশেষ আকর্ষণ: ওয়াইল্ডলাইফ সাফারির পাশাপাশি এখানে ইকো-ট্যুরিজম, নেচার ওয়াক (জঙ্গলে হাঁটা) এবং আদিবাসী গ্রামগুলো ঘুরে দেখার এক দারুণ সুযোগ থাকে।
9
9
৫. নাগরহোল জাতীয় উদ্যান, কর্ণাটক
দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের অংশ নাগরহোল জাতীয় উদ্যানের কাবিনি এবং নাঞ্চি গেট এলাকা বর্ষার মরশুমেও খোলা থাকে।
প্রধান বন্যপ্রাণী: বাঘ, হাতি, চিতাবাঘ এবং এই বনের সবচেয়ে বড় ইউএসপি— বিরল ব্ল্যাক প্যান্থার ।
বিশেষ আকর্ষণ: দক্ষিণ ভারতের বর্ষায় এই জঙ্গল তার জীবনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত এবং সবুজে ঠাসা রূপ ধারণ করে। বর্ষায় কাবিনী নদীর তীরে হাতির দলের জলকেলি দেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো।