দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহের মন্থর গতির পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি এবং তীব্র গরমের মধ্যে এবার ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করেছে বর্ষার মেঘ।
2
13
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে মধ্য ভারতের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।
3
13
আইএমডি জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে ছত্তীসগঢ়, পূর্ব ও পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং বিদর্ভ অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিই চলতি বর্ষা মরসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির ঘাটতির মুখে পড়েছে। সরকারি হিসেবে বর্ষা প্রবেশ করলেও বহু এলাকায় আকাশ পরিষ্কার ছিল এবং দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।
4
13
আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্যপ্রদেশ, বিদর্ভ ও ছত্তীসগঢ়ে মেঘের সক্রিয়তা বাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা এখনও খরিফ ফসলের বপন শুরু করতে পারেননি।
5
13
জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় চাষাবাদে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনা কৃষিকাজে গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
6
13
বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, যা দমকায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
7
13
একই ধরনের আবহাওয়া পূর্ব মধ্যপ্রদেশে ২০ থেকে ২৩ জুন এবং বিদর্ভে ১৯ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।
8
13
অন্যদিকে ছত্তীসগঢ়ে ১৯ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ২২ ও ২৩ জুন আবহাওয়া আরও বেশি সক্রিয় হতে পারে।
9
13
তবে মূল বর্ষা সক্রিয় হওয়ার আগে কিছু এলাকায় তীব্র প্রাক-বর্ষার আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, ১৯ ও ২০ জুন পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার, দমকায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পূর্ব মধ্যপ্রদেশেও ১৯ জুন একই ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
10
13
শুধু মধ্য ভারতই নয়, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যেও আগামী সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকালে ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
11
13
এছাড়া কেরল ও মাহেতে ১৯ থেকে ২৩ জুন, উপকূলীয় কর্ণাটকে ২১ থেকে ২৫ জুন এবং উত্তর ও দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ কর্ণাটকে ২২ ও ২৩ জুন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। লাক্ষাদ্বীপেও ২১ জুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
12
13
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা এখনও দেশের সব অংশে পুরোপুরি সক্রিয় না হলেও মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি, বজ্রঝড়ের প্রবণতা এবং বৃষ্টিপাতের বিস্তার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আবারও শক্তি সঞ্চয় করছে।
13
13
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্ষা আরও এগিয়ে দেশের উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করতে সাহায্য করবে এবং কৃষিক্ষেত্রেও নতুন আশার সঞ্চার করবে।