বর্ষায় পিরিয়ডের সময় বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি! অজান্তে কোন ৯ ভুলের কারণে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৩ : ২০
শেয়ার করুন
1
10
বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে বাড়তি আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া। এই সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে থাকার কারণে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের বৃদ্ধি সহজ হতে পারে।
2
10
বিশেষ করে পিরিয়ড চলাকালীন দীর্ঘক্ষণ স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার, শরীরের নিম্নাঙ্গ ভিজে থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সামান্য অবহেলাও নিম্নাঙ্গে অস্বস্তি, র্যাশ, চুলকানি কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বর্ষাকালে ঋতুচক্র চলাকালীন পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও একটু সতর্ক থাকা জরুরি। জেনে নিন কোন ৯টি সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন।
3
10
দীর্ঘক্ষণ একই প্যাড ব্যবহার:
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একই প্যাড ব্যবহার করলে রক্ত, ঘাম ও আর্দ্রতা মিলে অন্তরঙ্গ অঞ্চলে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এর ফলে র্যাশ বা ত্বকের জ্বালা বাড়তে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সাধারণভাবে প্যাড পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অন্তর বদলানো উচিত। রক্তপাত বেশি হলে তার আগেই পরিবর্তন করতে হতে পারে।
4
10
ভেজা অন্তর্বাস পরে থাকা:
বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বা ঘাম হলে অনেকক্ষণ ভেজা অন্তর্বাস পরে থাকা একেবারেই উচিত নয়। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ জীবাণু ও ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল হতে পারে। তাই অন্তর্বাস ভিজে গেলে দ্রুত বদলে শুকনো, পরিস্কার অন্তর্বাস পরুন।
5
10
অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার:
পিরিয়ডের সময় পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বারবার সাবান, সুগন্ধি বা কেমিক্যালযুক্ত পণ্য দিয়ে যোনির ভিতরের অংশ পরিসস্কার করতে হবে।
যোনির নিজস্ব একটি স্বাভাবিক pH ও মাইক্রোবায়োম রয়েছে। অতিরিক্ত সুগন্ধি বা ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে পরিস্কার করবেন না৷ বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখার জন্য সাধারণ পরিষ্কার জল যথেষ্ট হতে পারে। বিশেষ কিছু ব্যবহার করতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।
6
10
প্যাড পরিবর্তনের আগে হাত না ধোয়া:
প্যাড পরিবর্তনের আগে এবং পরে হাত পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাতের মাধ্যমে জীবাণু অন্তরঙ্গ অঞ্চলে পৌঁছতে পারে। তাই প্যাড পরিবর্তনের আগে সাবান ও পরিস্কার জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। ব্যবহৃত প্যাডও যথাযথভাবে মুড়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন।
7
10
ভুলভাবে ব্যবহৃত কাপড় পুনরায় ব্যবহার:
যাঁরা কাপড় ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্কার করা ও শুকিয়ে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালভাবে না ধুয়ে বা সম্পূর্ণ শুকানোর আগেই কাপড় পুনরায় ব্যবহার করা ঠিক নয়।
বর্ষায় রোদ কম থাকায় কাপড় শুকোতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু স্যাঁতসেঁতে কাপড় ব্যবহার করলে অন্তরঙ্গ অঞ্চলে অস্বস্তি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
8
10
খুব আঁটসাঁট পোশাক পরা:
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত টাইট জিন্স, সিন্থেটিক অন্তর্বাস বা এমন পোশাক যা বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, তা এড়িয়ে চলা ভাল। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে ঘাম ও দীর্ঘক্ষণ আঁটসাঁট পোশাকের সংস্পর্শে থাকলে অন্তরঙ্গ অঞ্চলে আর্দ্রতা ও ঘর্ষণ বাড়তে পারে। এতে র্যাশ বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
9
10
প্রস্রাব চেপে রাখা ও পর্যাপ্ত জল না খাওয়া:
বর্ষায় অনেকের জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। আবার বাইরে থাকলে বা কাজের চাপে অনেকে প্রস্রাবও চেপে রাখেন। এই অভ্যাস মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত জল পান করা এবং প্রয়োজন হলে প্রস্রাব না চেপে রাখা urinary health-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাই পিরিয়ডের সময়ও পর্যাপ্ত জল পান করুন। তবে শরীরের প্রয়োজন, আবহাওয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জল খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করুন।
10
10
চুলকানি বা অস্বাভাবিক স্রাবকে অবহেলা করা:
পিরিয়ডের সময় সামান্য অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু বারবার বা তীব্র চুলকানি, জ্বালা, অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্রাব, প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা তলপেটে ব্যথা হলে বিষয়টিকে শুধুমাত্র ‘বর্ষার সমস্যা’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এই ধরনের উপসর্গ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা কোনও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার না করাই ভাল।