বিধি বাম! মেসি ম্যাজিকের প্ল্যান করতেই শুধু ১২০ কোটির দুর্নীতি! সিপিএমের বিরুদ্ধে এবার বড় 'অভিযানে' ক্রীড়ামন্ত্রক?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৩ : ০৩
শেয়ার করুন
1
9
কেরলে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে আসা নিয়ে শুরু হয়েছিল তুমুল শোরগোল। তবে সেই বহুল চর্চিত সফর ভেস্তে যাওয়ার পর এবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অধ্যায়।
2
9
তৎকালীন বাম সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুররহিম দাবি করেছিলেন, আর্জেন্টিনীয় ফুটবল সংস্থাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মেসিদের ভারতে আনার ব্যবস্থা পাকা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ম্যাচ আয়োজিত না হওয়ায় বিষয়টিতে দুর্নীতির গন্ধ পায় রাজ্যের কংগ্রেস সরকার।
3
9
ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিটি তাদের চাঞ্চল্যকর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর জানা যাচ্ছে, মেসিকে আনার গোটা প্রক্রিয়াটিতে চরম আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার ছায়া রয়েছে।
4
9
বিশেষ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সরাসরি কোনও চুক্তি কিংবা যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। স্পনসর হিসেবে যে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছিল, তাদের বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও খোলা টেন্ডার ডাকা হয়নি।
5
9
ক্রীড়া দপ্তরকে কার্যত অন্ধকারে রেখে মন্ত্রী ও তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, সরকারি ইভেন্টের মোড়কে একটি বেসরকারি মাধ্যমকে বাণিজ্যিক সুবিধা করে দিতেই এই প্রচার চালানো হয়েছিল।
6
9
তদন্তের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিকটি হল বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রায় ১২৬ কোটি টাকা অর্থাৎ ১৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় অনুমতিপত্র জোগাড় করা হয়েছিল, যা নিয়ে ফরেইন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট বা ফেমা লঙ্ঘন এবং অর্থ পাচারের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
7
9
বাজেটের হিসাব এবং আনুমানিক আয়ের মধ্যেও প্রায় ১২৮ কোটি টাকার বিশাল ফারাক দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্য ভিজিল্যান্সের পাশাপাশি ইডি বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর জোর সুপারিশ করেছে কমিটি।
8
9
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর দাবি, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন ও বেসরকারি স্পনসর সংস্থার মধ্যেই চুক্তি হয়েছিল, যার ফলে সরকারি কোষাগারের কোনও ক্ষতি হয়নি।
9
9
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি নিয়েই অর্থ লেনদেনের পথ তৈরি করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। কিন্তু বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ নিয়ে রাজনীতি ও অর্থ তছরুপের এই জোড়া অভিযোগে এখন উত্তাল কেরলের রাজনৈতিক মহল।