ভেনেজুয়েলা সরকার ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন সোনা সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছিল। এর মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫.২০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক।
2
9
ওই সময়টিতে ভেনেজুয়েলাতে গভীর অর্থনৈতিক সংকট চলছিল। জ্বালানি আয় থেকে সমস্যা, অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের কারণে তারা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা রিজার্ভ বিক্রি করছিল। সোনা বিক্রি করে সেখানে কঠিন বা হার্ড কারেন্সি আনা ছিল সরকারের অন্যতম কৌশল, যাতে অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল রাখা যায়।
3
9
সুইজারল্যান্ড বিশ্বব্যাপী সোনা পরিশোধন ও সার্টিফিকেশন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম প্রধান স্থান। তাদের পাঁচটি বৃহৎ রিফাইনিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভেনেজুয়েলার এই সোনা সম্ভবত সেখানে পরিশোধন এবং পরবর্তীকালে বিশ্ব বাজারে রফতানির জন্য পাঠানো হয়েছিল।
4
9
২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই সোনা রপ্তানি শুরু হয়। ২০১৬ সালের মধ্যে এটি নিয়মিতভাবে চলছে। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে সুইজারল্যান্ডের দিকে কোনও সোনা রপ্তানি রেকর্ড করা হয়নি। এর পিছনে প্রধান কারণ ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তা এবং নেতা-জনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
5
9
২০১৮ সালের শুরুতে সুইজারল্যান্ডও নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করে যা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনকে আরও কঠিন করে তোলে। যদিও এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে ভেনেজুয়েলার সোনা আমদানির ওপর সরাসরি কোনও সমস্যা ছিল না।
6
9
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্ভবত সোনার জোগান প্রায় শেষ করে ফেলেছে। সোনা রিজার্ভ বিক্রি করার এই ব্যাপক প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার রিজার্ভের অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ফেলেছিল বলে ধারণা করা হয়।
7
9
ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট মূলত ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি তেল রাজস্বের হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এর ফলে সরকারকে তার সোনার রিজার্ভ পর্যন্ত ন্যায্য বা ন্যায্য-সম্ভাব্য পথ হিসাবে ব্যবহার করতে হয়েছে।
8
9
২০২৬ সালের প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কারাকাসে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পর, সুইজারল্যান্ড মাদুরো এবং তার ৩৬ জন সহযোগীর সম্পদ ফ্রিজ করার ঘোষণা করে। সুইস ফেডারেল কাউন্সিল ওই সম্পদগুলিকে চার বছরের জন্য আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
9
9
সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে যে যদি পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় যে সম্পদগুলো অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে, তাহলে সেই অর্থ ভেনেজুয়েলীয় জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, ভেনেজুয়েলান সোনা রপ্তানির ইতিহাস এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এখনও বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।