সপ্তাহের শেষে শেয়ার বাজারে রীতিমতো হাহাকার! চোখের পলকে হুড়মুড়িয়ে পড়ল সেনসেক্স ও নিফটি, আর সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেল দেশের আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে নিফটি আইটি ৬ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের রীতিমতো মাথায় হাত। ইনফোসিস, এইচসিএল টেক, টেক মাহিন্দ্রা এবং টিসিএস-এর মতো দেশের প্রথম সারির আইটি কোম্পানিগুলির শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।
2
8
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং টাটা স্টিলের মতো সংস্থাও ১ শতাংশের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে এই প্রবল রক্তক্ষরণের মধ্যেও নিফটি মিডিয়া, ফার্মা, হেলথকেয়ার ও কেমিক্যালস কিছুটা লাভের মুখ দেখেছে। পাশাপাশি সান ফার্মা এবং এনটিপিসি-র শেয়ারও প্রায় ১ শতাংশের মতো বেড়েছে।
3
8
হঠাৎ করে শেয়ার বাজারের এই বেহাল দশার পিছনে মূলত ওয়াল স্ট্রিটের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত গ্লোবাল কনসাল্টিং সংস্থা 'অ্যাকসেঞ্চার'-এর শেয়ারের দাম ওয়াল স্ট্রিটে এক ধাক্কায় ১১ শতাংশ পড়ে যাওয়ার পরেই ভারতের বাজারে এই প্যানিক সেল বা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির হিড়িক শুরু হয়। অ্যাকসেঞ্চার তাদের ২০২৬ সালের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩-৪ শতাংশ করেছে।
4
8
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা সাইবার সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ হলেও, আমেরিকার বড় কোম্পানিগুলো এখন অন্যান্য প্রযুক্তিগত খাতে খরচ কমাচ্ছে। আর ভারতের আইটি সেক্টর যেহেতু মূলত আমেরিকার বাজারের ওপরই নির্ভরশীল, তাই এই খরচে লাগাম টানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় আইটি শেয়ারগুলোতে এমন ভয়ংকর ধস নামে।
5
8
এর পাশাপাশি গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) শেয়ার তুলে নেওয়া। টানা তিন দিন শেয়ার কেনার পর বৃহস্পতিবার তারা হঠাৎ করেই ১,০২৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। চলতি বছরের জুনের প্রথম দু'সপ্তাহেই তারা বাজার থেকে তুলে নিয়েছে প্রায় ৬২,৮৫৩ কোটি টাকা, আর ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই টাকার অঙ্কটা প্রায় ২.৮৭ লক্ষ কোটি! অন্যদিকে, বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতিও খুব একটা সুবিধের নয়।
6
8
এশিয়ার বাজারগুলোতেও ব্যাপক পতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ পড়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তি বৈঠকের কথা ছিল, তা আচমকাই বাতিল হয়ে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর জেনেভা সফর স্থগিত করায় এই আলোচনা ভেস্তে যায়। এর মধ্যে ইজরায়েলও লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
7
8
তবে এত খারাপ খবরের ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি. কে. বিজয়কুমারের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমার কারণে অর্থনীতি কিছুটা মজবুত হচ্ছে, তাই বাজার পড়লে কম দামে ভালো শেয়ার কিনে রাখাটা (Buy on dips) এখন একটা লাভজনক কৌশল হতে পারে।
8
8
এছাড়া রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের আসন্ন এজিএম এবং জিও-র প্রস্তাবিত আইপিও-র দিকেও নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, অ্যাক্সিস ডিরেক্ট-এর রিসার্চ হেড রাজেশ পালভিয়া জানিয়েছেন, নিফটি যতক্ষণ ২৪,০০০-এর গণ্ডির ওপর টিকে থাকছে, ততক্ষণ ভয় পাওয়ার খুব একটা কারণ নেই। বাজার ২৪,৪০০ পেরোতে পারলে আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাই এই পতনের বাজারে ভয় না পেয়ে, সূচক ২৪,০০০-এর ওপর থাকা অবস্থায় বুঝে বিনিয়োগ করলেই আখেরে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকছে।