মাত্র ২৫-এই রাজনীতিতে কেল্লাফতে! বিহারের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক মৈথিলি ঠাকুরকে চেনেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯ : ০৫
শেয়ার করুন
1
6
বিহারের নির্বাচনে আলিনগরে বিজয়ী লোকগায়িকা এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী মৈথিলি ঠাকুর। ২৫ বছর বয়সি এই তরুণী নির্বাচন শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিজেপি-তে যোগ দেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিহারের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই’ তিনি রাজনীতিতে পা রেখেছেন।
2
6
মৈথিলির শিক্ষাজীবন ছিল প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়িতেই পড়াশোনা করেছেন। পরে ১২-১৩ বছর বয়সে ভর্তি হন একটি এমসিডি স্কুলে। ছোটবেলায়ই তাঁর গানের প্রতিভা সকলের চোখে পড়ে। সেই প্রতিভার ভিত্তিতে তিনি বাল ভবন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে সঙ্গীতের বৃত্তি পান, যেখানে পড়াশোনা এবং সঙ্গীতচর্চা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
3
6
সঙ্গীতে তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। তিনি ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস’ এবং ‘ইন্ডিয়ান আইডল জুনিয়র’-এর মতো একাধিক রিয়্যালিটি শোয়ে অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে বাদ পড়েন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। ২০১৭ সালে ‘রাইজিং স্টার’–এ স্কুলে পড়ার সময়ই প্রথম রানার-আপ হয়ে তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
4
6
টিকটক বা শর্ট-ভিডিওর যুগ শুরু হওয়ার আগেই তিনি ফেসবুক এবং ইউটিউবে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় হতে থাকেন। তাঁর গান দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহ্যবাহী এবং ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি যেমন নিজের আঞ্চলিক পরিচয় ধরে রেখেছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছেছেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করেন এবং অনলাইনে তাঁর বিশাল জনপ্রিয়তা।
5
6
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডে তাঁকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা অন্যায় মনে হওয়ায় মৈথিলি বেশ কিছু বছর হিন্দি ছবির সঙ্গীত থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি ২০২৪ সালে ‘অউরোঁ মে কহাঁ দম থা’ ছবির ‘কিসি রোজ’ গান দিয়ে বলিউডে ফিরে আসেন। গানটি কম্পোজ করেছিলেন এম.এম. কিরাবাণী এবং ছবিতে অভিনয় করেন অজয় দেবগন, টাবু এবং জিমি শেরগিল।
6
6
২০২১ সালে সঙ্গীত নৃত্য অ্যাকাডেমি তাঁকে ‘উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ যুব পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। তরুণ শিল্পীদের জন্য এটি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। পরে ভারতের নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিহারের ‘স্টেট আইকন’ হিসাবে ঘোষণা করে তাঁর সাংস্কৃতিক প্রভাব ও লোকসংগীতের প্রতি অবদানের জন্য।