ভারতে অবসর নেওয়ার পর অনেক প্রবীণেরই নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যায়। সঞ্চয় ঠিকভাবে বিনিয়োগ না করলে কয়েক বছরের মধ্যেই তা ফুরিয়ে যেতে পারে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার চালু করেছে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। একটি সরকার-সমর্থিত ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প, যা নিরাপত্তা, স্থির আয় এবং আকর্ষণীয় সুদের সুবিধা দেয়।
2
8
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় নাগরিকরা SCSS-এ বিনিয়োগ করতে পারেন। ৫৫–৬০ বছর বয়সীরা যদি সুপারঅ্যানুয়েশন, VRS বা বিশেষ VRS-এর মাধ্যমে অবসর নেন, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও ৫০ বছর বয়সের পর বিশেষ নিয়মে এই সুবিধা পান।
3
8
বর্তমানে SCSS-এ সুদের হার ৮.২% । সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়—এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর ও জানুয়ারির প্রথম কার্যদিবসে।
4
8
ধরা যাক, আপনি অবসরের পর ৩০ লক্ষ SCSS-এ বিনিয়োগ করলেন। ৮.২% বার্ষিক হারে আপনার বার্ষিক সুদ হবে আনুমানিক ২.৪৬ লক্ষ। মাসে গড়ে তা দাঁড়ায় প্রায় ২০,৫০০। অর্থাৎ, শুধুমাত্র সুদ থেকেই মাসে ২০,০০০-র বেশি নিয়মিত আয় সম্ভব—মূলধন অক্ষত রেখেই।
5
8
SCSS-এ জমা করা মূলধন আয়কর আইন ১৯৬১-এর ধারা ৮০C-এর আওতায় করছাড়ের যোগ্য। বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ পর্যন্ত ছাড় দাবি করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে—করছাড় প্রযোজ্য শুধুমাত্র মূলধনের উপর; প্রাপ্ত সুদের উপর আপনার কর-স্ল্যাব অনুযায়ী আয়কর দিতে হবে।
6
8
যদি বছরে সুদের পরিমাণ ১ লক্ষের বেশি হয়, তাহলে ১০% TDS কাটা হয়। তবে মোট আয় যদি মৌলিক করমুক্ত সীমার নিচে থাকে, তাহলে Form 15H জমা দিয়ে TDS এড়ানো যায়।
7
8
কেন SCSS জনপ্রিয়? সরকার-সমর্থিত নিরাপত্তা। উচ্চ ও স্থির সুদের হার। ত্রৈমাসিক আয়। করছাড়ের সুবিধা। অবসর-পরবর্তী স্থিতিশীল নগদ।
8
8
অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিশ্চয়তার জন্য SCSS একটি শক্তিশালী বিকল্প। বিশেষ করে যাঁরা এককালীন অবসর ভাতা পেয়েছেন এবং ঝুঁকি কম রেখে স্থায়ী আয় চান, তাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত। তবে বিনিয়োগের আগে নিজের কর-স্ল্যাব, অর্থের প্রয়োজন ও সামগ্রিক আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করা জরুরি।