আপনি কি জানেন, ভারতে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ার পর তাতে শৌচাগার বা টয়লেট ব্যবস্থা যুক্ত করতে ৫৫ বছর সময় লেগেছিল? ১৯০৯ সালের ২ জুলাই, অখিল চন্দ্র সেন নামে এক ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের সাহেবগঞ্জ ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে শুরু হওয়া সেই চিঠিটিই পরবর্তীতে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিণত হয়।
2
6
যাত্রীবাহী ট্রেনে ভ্রমণের সময় অখিল চন্দ্র সেন প্রাকৃতির ডাকে লাড়া দিতে আহমেদপুর রেলওয়ে স্টেশনে নেমেছিলেন। ১৮৫৩ সালে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হলেও, ১৯০৯ সাল পর্যন্ত ভারতীয় ট্রেনগুলোতে কোনও শৌচাগার ছিল না। দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে যাত্রীদের ট্রেন থামার সময় প্ল্যাটফর্ম বা খোলা মাঠেই এই প্রয়োজন মেটাতে হত।
3
6
চিঠিতে ক্ষুব্ধ অখিল জানিয়েছিলেন যে, ‘প্রাকৃতিক ডাকে’ সাড়া দিতে গিয়ে তিনি ট্রেন ধরতে পারেননি। ট্রেন তাঁকে ছাড়াই স্টেশন ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি যে হতাশা ও চরম অস্বস্তির শিকার হয়েছিলেন, তা-ই চিঠিতে ফুটে উঠেছিল।
4
6
জানা যায়, চিঠিতে লেখা ছিল: “আমি আহমেদপুর স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেনে করে এসেছিলাম এবং কাঁঠাল খেয়ে আমার পেট খুব ফুলে গিয়েছিল। তাই আমি শৌচকর্মের জন্য গিয়েছিলাম। ঠিক যখন আমি সেই কাজ করছিলাম, তখন গার্ড ট্রেন ছাড়ার বাঁশি বাজিয়ে দেন। আমি এক হাতে ‘লোটা’ ও অন্য হাতে ‘ধুতি’ সামলে দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাই এবং প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত নারী-পুরুষ সবার সামনেই অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হই।”
5
6
এই চিঠির জেরে রেলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয় এবং রেল কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে, নিম্ন-শ্রেণির বগিগুলোতে শৌচাগারের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে, ৫০ মাইলের (প্রায় ৮০ কিমি) বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারী সব নিম্ন-শ্রেণির বগিতে শৌচাগার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
6
6
বর্তমানে চিঠিটি রেলের ইতিহাসের একটি নিদর্শন হিসেবে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল রেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। এই সংগ্রহশালায় প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ আসেন, ওই চিঠি পড়েন।