বৃষ্টির সময়ে বজ্রপাত একটি সাধারণ ঘটনা হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাই আশেপাশে বাজ পড়তে শুরু করলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
2
12
যদি দেখেন আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং বজ্রপাতের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব কোনও পাকা বাড়ি বা নিরাপদ ঘরের মধ্যে আশ্রয় নিন। বাড়ির ভেতরে থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।
3
12
বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, টেলিভিশন, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ না করাই ভাল। সম্ভব হলে মোবাইল চার্জে বসিয়ে ব্যবহার করবেন না।
4
12
বাইরে থাকলে খোলা মাঠ, ছাদ, নদীর পাড়, পুকুর, জলাশয় বা উঁচু জায়গা থেকে দ্রুত সরে যান।
5
12
বিশেষ করে গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অভ্যাস অনেকের আছে, কিন্তু বজ্রপাতের সময় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
6
12
উঁচু গাছ বজ্রপাত আকর্ষণ করতে পারে, ফলে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে বিপদ আরও বাড়ে।
7
12
যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে আশেপাশে কোনও নিরাপদ আশ্রয় নেই, তাহলে মাটিতে সোজা শুয়ে পড়বেন না। বরং দুই পা একসঙ্গে রেখে নিচু হয়ে বসুন এবং মাথা নিচু করে রাখুন। এতে শরীরের উপর বজ্রপাতের প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। তবে হাত দিয়ে মাটি স্পর্শ না করাই ভাল।
8
12
বজ্রপাতের সময় সাইকেল, মোটরবাইক বা খোলা যানবাহনে থাকা নিরাপদ নয়। যত দ্রুত সম্ভব কোনও পাকা নির্মাণের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করুন।
9
12
ধাতব বস্তু যেমন ছাতা, মাছ ধরার ছিপ, লোহার রড বা অন্য কোনও ধাতব জিনিস থেকে দূরে থাকুন।
10
12
অনেকেই মনে করেন বৃষ্টি না হলে বজ্রপাতের ভয় নেই। এটি ভুল ধারণা। বজ্রঝড়ের সময় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেও বা বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও বজ্রপাত হতে পারে। তাই শেষ বাজ পড়ার শব্দ শোনার অন্তত ৩০ মিনিট পর্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
11
12
কেউ বজ্রপাতে আহত হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অনেকেই ভুল করে ভাবেন বজ্রাহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আসলে বজ্রপাতের পর মানুষের শরীরে কোনও বৈদ্যুতিক চার্জ জমে থাকে না। তাই তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
12
12
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ অনেক বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।