গৃহস্থের অন্দরে সাপের আনাগোনা নতুন নয়। তবে জীবনযাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তনেই এই ‘বিষধর’ আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
2
8
সাপ মূলত আসে খাবারের খোঁজে। আপনার বাড়িতে যদি ইঁদুর বা ব্যাঙের উপদ্রব থাকে, তবে তাদের পিছু পিছু সাপের ঢোকা কেবল সময়ের অপেক্ষা। বাড়ির এক কোণে পড়ে থাকা পুরনো টিন, ইঁট বা কাঠের স্তূপ সাপের কাছে ‘আদর্শ আবাসন’। নিরিবিলি ও অন্ধকার জায়গা পেলেই সে সেখানে ডেরা বাঁধে।
3
8
জানলার গা ঘেঁষে থাকা ঘন ঝোপঝাড় বা জঙ্গল সাপের রাজপথ। ওই পথ ধরেই সে অনায়াসে জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর হানা দেয়। ভিটের পুরনো দেওয়ালে ফাটল কিংবা ড্রেনের খোলা মুখ সাপের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।
4
8
বাড়িতে হাঁস-মুরগির খামার থাকলে তার ডিম বা ছোট বাচ্চার লোভে সাপ বারবার ফিরে আসে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে গর্তে জল ঢুকলে বা প্রচণ্ড গরমে মাটির নিচ তপ্ত হয়ে উঠলে সাপ একটু ঠান্ডা ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। এছাড়া বাড়ির দরজার নিচে যদি অনেকটা ফাঁক থাকে কিংবা রাতে দরজা খোলা রাখার অভ্যাস থাকে, তবে সাপ বিনা বাধায় ঢুকে পড়ে।
5
8
অন্যদিকে নিয়মিত কিছু নিয়ম পালন করলে সাপের এহেন উপদ্রব থেকে মিলবে রেহাই৷ সাপের সবচেয়ে বড় শত্রু কার্বলিক অ্যাসিডের গন্ধ। বাড়ির চারকোণে ছোট শিশিতে এই অ্যাসিড ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। সাপের সাধ্য নেই সেই সীমানা পেরোয়।
6
8
বাড়ির চারপাশ জঞ্জালমুক্ত রাখুন। ঝোপঝাড় ছেঁটে ফেলুন। মনে রাখবেন, সাপ লুকোনোর জায়গা না পেলে সেখানে থাকতে চায় না। বাড়ির দেওয়াল বা মেঝেতে কোনও গর্ত থাকলে তা দ্রুত সিমেন্ট দিয়ে বুজিয়ে দিন। নর্দমার মুখে সূক্ষ্ম তারের জাল ব্যবহার করুন।
7
8
নিয়মিত ফিনাইল দিয়ে ঘর মুছুন। বাড়ির নোনা ধরা কোণ বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে রাখলে সাপের উপদ্রব কমে। বাড়ির বাগানে বা টবে সর্পগন্ধা বা লেমনগ্রাস গাছ লাগাতে পারেন। এই গাছগুলোর প্রাকৃতিক গন্ধ সাপকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
8
8
বাড়ির আশেপাশে এঁটো খাবার ফেলবেন না। এতে ইঁদুর আসবে না, ফলে সাপও তার শিকার খুঁজতে আপনার বাড়িতে ঢুকবে না। রাতে অন্ধকারে বাড়ির বাইরে বেরোলে অবশ্যই জোরালো টর্চ ব্যবহার করুন। সাপের উপস্থিতির সামান্যতম আভাস পেলে লাঠি দিয়ে মাটিতে শব্দ করুন, সাপ নিজে থেকেই পথ পরিবর্তন করবে।