ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের নাম রাখা হয়েছে “লায়ন’স রোর” বা সিংহের গর্জন। নামটি বেছে নিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সরকারি সূত্রের খরবে জানা গেছে, ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী শুরুতে এই অভিযানের জন্য ভিন্ন একটি নাম ঠিক করেছিল।
2
6
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিএফ তাদের নিজস্ব প্রটোকল অনুযায়ী একটি কার্যকরী ও কৌশলগত নাম চূড়ান্ত করেছিল। সাধারণত সামরিক বাহিনী অভিযানের উদ্দেশ্য, পরিসর ও কৌশলগত লক্ষ্য মাথায় রেখে এমন নাম নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু এবার সেই প্রথা থেকে কিছুটা সরে এসে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এমন একটি নাম চেয়েছিলেন যা জনমনে শক্ত বার্তা দেবে এবং ইজরায়েলের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করবে।
3
6
“লায়ন’স রোর” নামটি কেবল একটি সামরিক কোডনেম নয়; এতে রয়েছে প্রতীকী অর্থ। সিংহ দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বাইবেলীয় ঐতিহ্য থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় সিংহ সাহস, শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতীক। “রোর” বা গর্জন শব্দটি শত্রুর প্রতি সতর্কবার্তা এবং প্রতিরোধের ইঙ্গিত বহন করে। ফলে নামটি একদিকে যেমন সামরিক শক্তির প্রকাশ, অন্যদিকে তেমনি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
4
6
এই নামের সঙ্গে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত আগের অভিযানেরও সরাসরি সংযোগ রয়েছে। সে সময় ইসরায়েলের অভিযানের নাম ছিল “রাইজিং লায়ন” । নতুন অভিযানের নামেও ‘লায়ন’ শব্দটি রেখে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে ইরান ইস্যুতে ইজরায়েলের নীতি ও কৌশল অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
5
6
নাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ইজরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সাধারণত আইডিএফ কৌশলগত বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতেই থাকে। নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপকে অনেকে জনমতকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
6
6
সব মিলিয়ে “লায়ন’স রোর” নামটি কেবল একটি সামরিক অভিযানের পরিচয় নয়; এটি ইজরায়েলের কৌশলগত অবস্থান, রাজনৈতিক বার্তা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার আবহে এই নাম ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিতও বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্বের তাবড় নেতারা।