পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত হঠাৎ করে ভয়াবহ মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের তথাকথিত “প্রিভেন্টিভ” ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। এই ঘটনার জেরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সোনা ও রুপোর দামে।
2
7
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় ‘গ্যাপ-আপ’ দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি দামে লেনদেন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজার থেকে সরে এসে সোনা ও রুপোর মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়।
3
7
আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছুঁতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই স্তর ভেঙে উপরে টিকে থাকতে পারলে দেশের বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৬৮,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ টাকার ঘরে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
4
7
ভারতের Multi Commodity Exchange (MCX)-এ সোনা ইতিমধ্যেই ১,৬০,০০০ টাকার গুরুত্বপূর্ণ স্তর ভেঙে ১,৬২,০০০ টাকার আশেপাশে স্থির হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ১,৬০,০০০ টাকার স্তর সাপোর্ট হিসেবে ধরে রাখতে পারে, তাহলে খুব শিগগিরই দাম ১,৬৩,৫০০ থেকে ১,৬৫,০০০ টাকার দিকে এগোতে পারে।
5
7
রুপোর বাজারেও একই রকম জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। MCX-এ রুপো ইতিমধ্যে ২,৮০,০০০ থেকে ২,৮৫,০০০ টাকার মধ্যে লেনদেন করছে। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তা ২,৯০,০০০ থেকে ২,৯৫,০০০ টাকার স্তরে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
6
7
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, দেশজুড়ে সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু সোনা-রুপো নয়, তেল ও শেয়ার বাজারেও গভীরভাবে পড়তে পারে।
7
7
সব মিলিয়ে, বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে। সোমবার বাজার খোলার পরই বোঝা যাবে আতঙ্ক কতটা গভীর এবং সোনা-রুপোর দামে তার প্রতিফলন কতটা তীব্র হয়।