ভারতীয় সিনেমার পরিসরে ধীরে ধীরে শক্তিশালী জায়গা করে নিচ্ছেন নারী পরিচালকরা। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে শুরু করে সাহসী সামাজিক প্রশ্ন—তাঁদের ছবিতে উঠে আসে এমন সব গল্প, যা প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে। অনেক ক্ষেত্রেই এই নির্মাতারা এমন নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প বলেন, যাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত হলেও তার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় বৃহত্তর সমাজে।
2
15
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক ভারতীয় সিনেমার এমন কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি, যেগুলি নারী পরিচালকদের হাত ধরে দর্শক ও সমালোচকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
3
15
১. থার্টি সিক্স চৌরঙ্গী লেন (১৯৮১)
পরিচালনা: অপর্ণা সেন
কলকাতায় বসবাসকারী অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বৃদ্ধ শিক্ষিকা ভায়োলেট স্টোনহামের একাকীত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সংবেদনশীল ছবি। এক তরুণ দম্পতির সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে জীবনে ক্ষণিকের সঙ্গ খুঁজে পান তিনি। নিঃসঙ্গতা, বার্ধক্য ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার সূক্ষ্ম অনুভূতি ছবিতে অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।
4
15
২. ফায়ার (১৯৯৬)
পরিচালনা: দীপা মেহতা
পরিচালকের ‘এলিমেন্টস ট্রিলজি’-র অংশ এই ছবি। রক্ষণশীল পরিবারে বসবাস করা দুই অবহেলিত বউয়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া আবেগ ও সম্পর্কের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এখানে। মুক্তির সময় ছবিটি ভারতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
5
15
৩. দরমিয়া : ইন বিট্যুইন (১৯৯৭)
পরিচালনা: কল্পনা লজমি
১৯৪০ ও ৫০-এর দশকের হিন্দি চলচ্চিত্র জগতকে পটভূমি করে তৈরি এই ছবিতে এক অভিনেত্রী এবং তাঁর ইন্টারসেক্স সন্তানের গল্প উঠে আসে। পরিচয়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মাতৃত্বের জটিলতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।
6
15
৪. ম্যাঁয় হুঁ না(২০০৪)
পরিচালনা: ফারাহ খান
এক সেনা অফিসারের গোপন মিশনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই অ্যাকশন-কমেডি ছবি এককথায় রোম্যান্স, হাস্যরস ও দেশাত্মবোধের দুরন্ত ককটেল। মূলধারার বলিউড বিনোদনে নারী পরিচালকের সাফল্যের এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এই ছবি।
7
15
৫. জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা (২০১১)
পরিচালনা: জোয়া আখতার
স্পেন জুড়ে তিন বন্ধুর রোড ট্রিপ। এই সফর-ই ধীরে ধীরে তাদের জীবনের ভয়, সম্পর্ক এবং আবেগের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বন্ধুত্ব ও জীবনের আনন্দকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার গল্প এই ছবি।
8
15
৬. ইংলিশ ভিংলিশ (২০১২)
পরিচালনা: গৌরী শিণ্ডে
ইংরেজি ভাষা না জানার কারণে পরিবারের কাছে অবমূল্যায়িত এক গৃহবধূর আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার গল্প। নিউ ইয়র্কে গিয়ে ইংরেজি শেখার মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিচয় খুঁজে পান তিনি। ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবীi।
9
15
৭. কাজারিয়া (২০১৩)
পরিচালনা: মধুঋতা আনন্দ
গ্রামীণ ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে নারী ভ্রূণ হত্যা ও সামাজিক বৈষম্যের কঠিন বাস্তব উঠে আসে। এক সাংবাদিকের তদন্তের মাধ্যমে পিতৃতন্ত্র, দারিদ্র্য এবং সামাজিক চাপে তৈরি ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
10
15
৮. তলোয়ার (২০১৫)
পরিচালনা: মেঘনা গুলজার
নয়ডার বহুল আলোচিত দ্বৈত খুনের ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি এই টানটান তদন্তমূলক ছবি। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনার বিশ্লেষণ করে ছবিটি প্রশ্ন তোলে প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তদন্ত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে।
11
15
৯. ডিয়ার জিন্দেগি(২০১৬)
পরিচালনা: গৌরী শিণ্ডে
এক তরুণী সিনেমাটোগ্রাফারের জীবনসংকট, সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের লড়াই নিয়ে তৈরি এই ছবি। একজন জনপ্রিয় অথচ 'হটকে' মনোবিদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে সে নিজের অতীত ও আবেগের মুখোমুখি হয়। শেষমেশ কী হয়, তাই নিয়েই এই ছবি।
12
15
১০.নীল বট্টে সন্নাটা (২০১৬)
পরিচালনা: অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি
এক গৃহকর্মী মায়ের গল্প, যিনি মেয়েকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে নিজেই স্কুলে ভর্তি হন। শিক্ষা, সামাজিক বৈষম্য এবং মাতৃত্বের শক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অনুপ্রেরণামূলক ছবি।
13
15
১১.লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা (২০১৬)
পরিচালনা: অলংকৃতা শ্রীবাস্তব
চার প্রজন্মের চার নারীর গোপন ইচ্ছা, স্বাধীনতা ও পরিচয়ের খোঁজ-এই সাহসী গল্পই ছবির মূল সুর। রক্ষণশীল সমাজে নারীর আকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল এই ছবি।
14
15
১২. রাজি (২০১৮)
পরিচালনা: মেঘনা গুলজার
১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই গুপ্তচর থ্রিলার। সাধারণ এক তরুণী কীভাবে দেশের স্বার্থে গুপ্তচরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, সেই গল্প আবেগ ও টানটান উত্তেজনার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে।
15
15
লাপতা লেডিস (২০২৪):
পরিচালনা: কিরণ রাও।
২০০০-এর দশকের গোড়ার সময়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ছবির কাহিনি দুই নববিবাহিত কনের জীবনকে ঘিরে। বিয়ের পর প্রথম ট্রেনযাত্রার সময় হঠাৎ করেই দুর্ঘটনাবশত অদলবদল হয়ে যায় তাদের পথ। সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর শুরু হয় দুই নারীর আলাদা আলাদা যাত্রা, যা ধীরে ধীরে তাদের সামনে খুলে দেয় নতুন অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার দরজা।অচেনা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে তারা ধীরে ধীরে খুঁজে পেতে শুরু করে নিজের স্বাধীনতা, আত্মপরিচয় এবং সমাজের কঠোর প্রত্যাশার জটিল দিকগুলো।
সরল অথচ গভীর গল্পের মাধ্যমে ছবিটি তুলে ধরে কখনও কখনও হারিয়ে যাওয়াই মানুষকে নিজের সত্যিকারের সত্তার কাছে পৌঁছে দেয়।