ভারতীয় রেল যাত্রীদের বাজেট ও ভ্রমণের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কোচ বা শ্রেণির ব্যবস্থা রেখেছে। ভিড়ভাট্টা-পূর্ণ সাধারণ কোচ থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ফার্স্টক্লাস এসি (1AC) কম্পার্টমেন্ট পর্যন্ত। স্লিপার, সাধারণ, থার্ড এসি, সেকেন্ড এসি এবং ফার্স্ট এসি কোচগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো জেনে নিন এবং আপনার পরবর্তী ট্রেন যাত্রার জন্য কোনটি উপযুক্ত তা বুঝে নিন।
2
7
ভারতীয় রেল বিভিন্ন শ্রেণির কোচ শনাক্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু কোড বা সংকেত ব্যবহার করে। স্লিপার ক্লাসের কোচগুলো 'এস' অক্ষর দিয়ে, থার্ড এসি কোচগুলো 'বি' দিয়ে এবং সেকেন্ড এসি কোচগুলো 'এ' দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। এই কোডগুলো যাত্রীদের তাদের সংরক্ষিত কোচ দ্রুত খুঁজে পেতে এবং ট্রেনে ওঠার আগেই ভ্রমণের শ্রেণি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।
3
7
কিন্তু আপনি কি কখনও কোনও ট্রেনে 'এবি' চিহ্নিত কোচ দেখেছেন? পরিচিত এস, এ বা বি কোচের মতো নয়, 'এবি' কোচটি প্রায়শই যাত্রীদের মধ্যে কৌতূহল জাগায়। এই কোডটির অর্থ কী এবং কারা এতে ভ্রমণ করতে পারেন? ভারতীয় রেলের এই অনন্য 'এবি' কোচ সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল।
4
7
থার্ড এসি যাত্রীরা 'বি' চিহ্নিত কোচে ভ্রমণ করেন, আর সেকেন্ড এসি যাত্রীদের জন্য 'এ' চিহ্নিত কোচের ব্যবস্থা থাকে। 'এবি' কোচ হল এই দুই শ্রেণির একটি সংমিশ্রণ, যেখানে সেকেন্ড এসি এবং থার্ড এসি- উভয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্যই আলাদা অংশ থাকে। এর কিছু বার্থ থার্ড এসির জন্য এবং অন্যগুলো সেকেন্ড এসি যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তাই, আপনার টিকিট যদি 'এবি' কোচে বরাদ্দ করা হয়, তবে বার্থের বিবরণটি ভালোভাবে দেখে নিন এবং শুধুমাত্র আপনার শ্রেণির জন্য নির্ধারিত অংশেই বসুন।
5
7
'এবি' কোচের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, একই বার্থ নম্বর সেকেন্ড এসি এবং থার্ড এসি- উভয় অংশেই থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, '৩' নম্বরযুক্ত দু'টি বার্থ থাকতে পারে। একটি কোচের সেকেন্ড এসি অংশে এবং অন্যটি থার্ড এসি অংশে। এ কারণেই যাত্রীদের কেবল বার্থ নম্বরই নয়, বরং ভ্রমণের শ্রেণিটিও ভালভাবে দেখে নেওয়া উচিত, যাতে তারা সঠিক অংশে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন।
6
7
তাহলে, 'এবি' কোচে সঠিক আসনটি কীভাবে শনাক্ত করবেন? সবচেয়ে সহজ উপায় হল টিকিটে উল্লিখিত শ্রেণিটি দেখে নেওয়া। আপনি যদি থার্ড এসি (3AC) টিকিট বুক করে থাকেন, তবে আপনার বার্থটি থার্ড এসি অংশে থাকবে, যেখানে সাধারণত একটি 'মিডল বার্থ' বা মাঝের বার্থও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে, আপনি যদি সেকেন্ড এসি (2AC) শ্রেণিতে ভ্রমণ করেন, তবে আপনার আসনটি সেকেন্ড এসি সেকশনে থাকবে। এই সেকশনে কেবল লোয়ার (নীচের) ও আপার (উপরের) বার্থ থাকে, কোনও মিডল (মাঝের) বার্থ থাকে না। ট্রেনে ওঠার সময় বিভ্রান্তি এড়াতে আপনার কোচ-এর শ্রেণি এবং বার্থের বিস্তারিত তথ্য আগেভাগে দেখে নেওয়া ভাল।
7
7
'এবি' কোচে নিজের আসনটি চিনে নেওয়ার আরেকটি সহজ উপায় হল কোচের বিন্যাস বা লেআউট দেখে নেওয়া। থার্ড এসি সেকশনে সাধারণত পর্দা ছাড়া খোলা 'বে' বা বার্থের সারি থাকে, অন্যদিকে সেকেন্ড এসি সেকশনে বার্থের চারপাশে পর্দা থাকায় অধিক গোপনীয়তা বজায় থাকে। আপনার বার্থটি পর্দা-ঘেরা এলাকায় নাকি পর্দা-বিহীন এলাকায়- তা দেখে আপনি সহজেই সঠিক সেকশনটি শনাক্ত করতে পারবেন। এরপরও যদি কোনও সংশয় থাকে, তবে আপনি অনায়াসেই ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই-র সহায়তা নিতে পারেন। তিনি আপনাকে আপনার নির্ধারিত আসনটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন।