ইতিহাস স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের সাক্ষ্যবাহী ভারতীয় টাকা, কোন নোটে কিসের ছবি?
২৩ জুন ২০২৬ ১৩ : ৩৫
- 1
- 23
ভারতীয় নোট শুধু টাকা নয়, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক একটি ক্ষুদ্রচিত্র৷ বিভিন্ন মূল্যের নোটে রয়েছে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের নির্দশন৷ চলুন দেখে যাওয়া যাক কোন নোটে কোন স্থাপত্যকীর্তি স্থান পেয়েছে?
- 2
- 23
১০ টাকার নোট: ১০ টাকার নোটে আছে কোনার্ক সূর্য মন্দির। ওড়িশার পুরীতে অবস্থিত কোনার্ক সূর্য মন্দির। এটি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকলার এক অসাধারণ উদাহরণ। ১৩শ শতকে পূর্ব গঙ্গ রাজবংশের রাজা প্রথম নরসিংহদেবের আমলে এই মন্দির নির্মাণ করা হয় বলে মনে করা হয়।
- 3
- 23
সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে তৈরি এই মন্দিরটি একটি বিশাল রথের আকারে গড়ে তোলা হয়েছে। এর ২৪টি চাকা এবং ঘোড়ার ভাস্কর্য প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের দক্ষতার পরিচয় দেয়।
- 4
- 23
কোনারক মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি সেই সময়ের বিজ্ঞান, গণিত, শিল্প ও ভাস্কর্যের উন্নতির প্রমাণ। মন্দিরের পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটে উঠেছে তৎকালীন সমাজজীবন, সংস্কৃতি ও মানুষের ভাবনা। সূক্ষ্ম নির্মাণশৈলীর জন্য ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- 5
- 23
২০ টাকার নোটে: ২০ টাকার নোটে আছে মহারাষ্ট্রের ইলোরা গুহা হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন স্থাপত্যের মিলনস্থল। Ellora Caves ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ অঞ্চলে অবস্থিত এই গুহাগুলি খ্রিস্টীয় পঞ্চম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে তৈরি হয়েছিল।
- 6
- 23
ইলোরা গুহার মোট ৩৪টি গুহার মধ্যে ১২টি বৌদ্ধ, ১৭টি হিন্দু এবং ৫টি জৈন গুহা রয়েছে। এই গুহাগুলির মধ্যে কৈলাস মন্দির সবচেয়ে বিখ্যাত। পাহাড় কেটে তৈরি এই বিশাল মন্দির প্রাচীন ভারতের প্রকৌশল দক্ষতার অনন্য উদাহরণ।
- 7
- 23
পাথরের ওপর সূক্ষ্ম খোদাই, দেব-দেবীর মূর্তি এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনির চিত্র ইলোরা শিল্পের উৎকর্ষ প্রমাণ করে। ইলোরা শুধু একটি পর্যটন স্থান নয়, এটি ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও প্রাচীন শিল্পকলার প্রতীক। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে UNESCO ১৯৮৩ সালে ইলোরাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে৷
- 8
- 23
৫০ টাকার নোট: হামপির রথ মুদ্রিত ৫০ টাকার নোটে৷ স্টোন চ্যারিয়ট হাম্পি (Stone Chariot, Hampi) ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকলার এক অসাধারণ নিদর্শন। কর্ণাটকের হাম্পিতে অবস্থিত এই পাথরের রথটি বিজয়নগর সাম্রাজ্যের (১৪শ–১৬শ শতাব্দী) ঐতিহ্যের প্রতীক। বিষ্ণুর বাহন গরুড়কে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
- 9
- 23
হাম্পির রথের বিশেষত্ব হল, এটি সম্পূর্ণভাবে পাথর খোদাই করে তৈরি। এর চাকা, স্তম্ভ এবং অলংকরণে প্রাচীন ভারতীয় ভাস্করদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। রথের চাকাগুলি একসময় ঘোরানো যেত বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও বর্তমানে সংরক্ষণের জন্য সেগুলি স্থির রাখা হয়েছে।
- 10
- 23
হাম্পির রথ শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিল্পরুচির প্রমাণ। এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের গুরুত্বের জন্য হাম্পি UNESCO World Heritage Centre-এর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। এটি ভারতের গৌরবময় অতীতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
- 11
- 23
১০০ টাকার নোট: এই নোটে আছে রানি কি ভাব (Rani ki Vav)। এটি ভারতের অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। গুজরাটের পাটনে অবস্থিত এই ধাপকূপটি (stepwell) একাদশ শতাব্দীতে সোলাঙ্কি রাজবংশের সময় নির্মিত হয়েছিল। এটি রাজা ভীমদেব প্রথমের স্মৃতিতে তাঁর স্ত্রী রানি উদয়মতী তৈরি করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
- 12
- 23
'রানি কি ভাব'-এর বিশেষত্ব হল এর অসাধারণ স্থাপত্য ও সূক্ষ্ম ভাস্কর্য। মাটির নীচে নেমে যাওয়া এই বিশাল ধাপকূপে সাতটি স্তর রয়েছে। দেওয়ালজুড়ে হাজারেরও বেশি দেব-দেবী, পৌরাণিক চরিত্র ও জীবনের নানা দৃশ্য খোদাই করা আছে। এর নকশায় প্রাচীন ভারতের জল সংরক্ষণ পদ্ধতি ও শিল্পকলার চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।
- 13
- 23
একসময় এটি শুধু জল সংগ্রহের স্থান ছিল না, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হত। রানি কি ভাব ভারতের প্রাচীন প্রকৌশল দক্ষতা ও ভাস্কর্যশিল্পের এক অনন্য উদাহরণ। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কো (UNESCO World Heritage Centre) ২০১৪ সালে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- 14
- 23
২০০ টাকার নোট: সাঁচি স্তূপ মুদ্রিত ২০০ টাকার নোটে৷ (Sanchi Stupa) ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ স্থাপত্য নিদর্শন। এটি সম্রাট অসগোকের আমলে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে নির্মিত হয়েছিল। বুদ্ধের ধর্ম ও শিক্ষার স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই স্তূপ তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছিল।
- 15
- 23
সাঁচি স্তূপের বিশেষ আকর্ষণ হল এর চারটি তোরণ বা প্রবেশদ্বার, যেখানে বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, জাতক কাহিনি এবং প্রাচীন ভারতের সমাজজীবনের চিত্র খোদাই করা রয়েছে। যদিও বুদ্ধের মূর্তি সরাসরি এখানে নেই, প্রতীক হিসেবে পদচিহ্ন, পদ্ম, বোধিবৃক্ষ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে।
- 16
- 23
সাঁচি স্তূপ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি প্রাচীন ভারতের স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্পকলার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে UNESCO World Heritage Centre ১৯৮৯ সালে সাঁচিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- 17
- 23
৫০০ টাকার নোট: দিল্লির লাল কেল্লা চিত্রিত ৫০০ টাকার নোটে৷ এটি মুঘল যুগের স্থাপত্যের প্রতীক। Red Fort ভারতের ইতিহাস ও স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মুঘল সম্রাট শাহজাহান ১৭শ শতকে (১৬৩৮ সালে) এর নির্মাণ শুরু করেন। লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরি এই বিশাল দুর্গের জন্য এর নাম হয়েছে লাল কেল্লা।
- 18
- 23
লাল কেল্লা মুঘল সাম্রাজ্যের শক্তি, ঐশ্বর্য ও শিল্পরুচির প্রতীক। এর ভিতরে রয়েছে দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদসহ বহু সুন্দর স্থাপত্য। এখানকার নকশায় পারস্য, ভারতীয় ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর অসাধারণ মিল দেখা যায়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেও লাল কেল্লার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
- 19
- 23
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু এখান থেকেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ভাষণ দেন। এরপর থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করেন।
- 20
- 23
লাল কেল্লা ভারতের গৌরবময় অতীত, স্বাধীনতার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে UNESCO World Heritage Centre ২০০৭ সালে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- 21
- 23
RBI-এর নোটের নকশা একজন ব্যক্তি একা তৈরি করেন না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। ভারতে নোটের ডিজাইন তৈরির দায়িত্ব মূলত থাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে ভারত সরকারের সমন্বয়ে৷
- 22
- 23
নোটের প্রয়োজন, নিরাপত্তা, টাকার বৈশিষ্ট্য, টাকায় কী কী ছাপা হবে এসব নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটি থাকে৷ ডিজাইন তৈরির সময় সাধারণত RBI-এর বিশেষজ্ঞ দল, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি নিরাপত্তা মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ, শিল্পী ও ডিজাইনাররা মিলে নকশা তৈরি করেন।
- 23
- 23











