লাদাখে এবার ভারতের প্রথম স্নো লেপার্ড সাফারি, পাহাড় বরফ সঙ্গে তুষার চিতা, কীভাবে হবে সেই অ্যাডভেঞ্চার?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ আগস্ট ২০২৬ ১৪ : ৪২
শেয়ার করুন
1
13
লাদাখ মানেই পাহাড়, বরফ, নীল আকাশ আর চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু এবার এই পরিচিত ছবির সঙ্গে যোগ হতে চলেছে আরও এক বড় আকর্ষণ। লাদাখে শুরু হতে চলেছে ভারতের প্রথম হাই-অল্টিটিউড ওয়াইল্ডলাইফ সাফারি। আর এই সাফারির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে বিরল স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতা।
2
13
স্নো লেপার্ডকে সামনে থেকে দেখা সহজ নয়। বরফে ঢাকা পাহাড় আর পাথুরে ঢালে এমনভাবে মিশে থাকে এই প্রাণী যে, অনেক সময় চোখের সামনেই থাকলেও তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
3
13
সেই কারণেই ‘Ghost of the Mountains’ বা ‘পাহাড়ের ভূত’ নামেও পরিচিত এই প্রাণীকে দেখতে দেশ-বিদেশের বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।
4
13
এবার সেই অভিজ্ঞতাই আরও সহজ এবং নিরাপদ করার উদ্যোগ নিয়েছে লাদাখ প্রশাসন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনাই কুমার সাক্সেনার অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট এলাকায় প্রশিক্ষিত গাইডদের সঙ্গে নিয়ে জিপ সাফারি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
5
13
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যত্রতত্র ঘোরার বদলে নির্দিষ্ট পথেই চলবে এই সাফারি। ফলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা যেমন সুন্দর হবে, তেমনই পাহাড়ের নাজুক পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীদেরও সুরক্ষিত রাখা যাবে।
6
13
কোথায় হবে এই সাফারি?
লাদাখের একাধিক বন্যপ্রাণ সমৃদ্ধ এলাকা এই সাফারির আওতায় আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হেমিস ন্যাশনাল পার্ক, চাংথাং ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, কারাকোরাম ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি, নুব্রা, জ়ান্সকার, শাম, কার্গিল এবং দ্রাস। এই অঞ্চলগুলিতে স্নো লেপার্ডের পাশাপাশি নানা ধরনের বিরল পাখিও দেখা যায়।
7
13
সাফারির জন্য বিশেষ ধরনের খোলা জিপ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষিত স্থানীয় চালক এবং গাইডরা পর্যটকদের সঙ্গে থাকবেন। ফলে শুধু প্রাণী দেখাই নয়, লাদাখের বন্যপ্রাণ, পাহাড়ি পরিবেশ এবং স্থানীয় প্রকৃতি সম্পর্কেও জানার সুযোগ থাকবে।
8
13
লাদাখেই কেন স্নো লেপার্ড দেখতে যাবেন?
স্নো লেপার্ডের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে লাদাখ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আনুমানিক ৭১৮টি স্নো লেপার্ড রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪৭৭টি লাদাখে। অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে বড় স্নো লেপার্ড জনসংখ্যা রয়েছে এই অঞ্চলে।
9
13
তবে শুধু স্নো লেপার্ড নয়, লাদাখের এই সাফারিতে দেখা মিলতে পারে নানা ধরনের পাহাড়ি প্রাণী ও পাখিরও। এই অঞ্চলে ৩৮টির বেশি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং প্রায় ৩৪০ প্রজাতির পাখি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
10
13
নতুন সাফারির জন্য স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০ জন স্থানীয় তরুণকে পাখি চেনা, পাখি দেখা এবং পর্যটকদের সেই বিষয়ে জানানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
11
13
প্রশাসনের লক্ষ্য, পর্যটন থেকে স্থানীয় মানুষ যাতে সরাসরি উপকৃত হন এবং একইসঙ্গে তাঁরা নিজের এলাকার প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় আরও সক্রিয় হন।
12
13
এর পাশাপাশি ৪০টি গ্রামের জন্য ৩০০টি বর্জ্য ফেলার বিন, ৫০টি সরকারি স্কুলে ওয়াইল্ডলাইফ ক্লাব এবং স্থানীয় তরুণদের জন্য বন্যপ্রাণের ফটোগ্রাফি ফেলোশিপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
13
13
সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীতের স্নো লেপার্ড দেখার মরসুম শুরু হওয়ার আগেই। ফলে আগামী দিনে লাদাখ ভ্রমণ মানে শুধু পাহাড় আর বরফ দেখা নয়—বরং প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি গিয়ে ‘পাহাড়ের ভূত’-এর খোঁজে বেরিয়ে পড়ার সুযোগও হতে পারে।