ভারতে মোবাইল ফোনে কল রিসিভ করার আগে কলারের পরিচয় জানার পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। থার্ড পার্টি অ্যাপ, যেমন Truecaller-এর ওপর নির্ভর না করে এবার সরাসরি টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কলারের নাম দেখাবে সরকার। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (TRAI) ইতিমধ্যেই টেলিযোগাযোগ দপ্তর (DoT)-এর প্রস্তাবিত ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (CNAP) ফ্রেমওয়ার্ক অনুমোদন করেছে। ফলে দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের জন্য চালু হতে চলেছে একটি সরকারি যাচাইকৃত কলার পরিচয় ব্যবস্থা।
2
7
কী এই CNAP? এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোনে সাধারণত ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন’ (CLI) ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ফোন নম্বরটিই দেখা যায়। কিন্তু নতুন CNAP চালু হলে ফোন বেজে উঠলেই সেই নম্বরের সঙ্গে যুক্ত গ্রাহকের নতিভুক করা নামও স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। অর্থাৎ, কে ফোন করছেন তা আগে থেকেই জানা সম্ভব হবে। এই নাম আসবে সরাসরি টেলিকম অপারেটরের নথিভুক্ত তথ্য থেকে—যা গ্রাহকের KYC (Know Your Customer) প্রক্রিয়ার সময় জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। ফলে নামের নির্ভুলতা থাকবে সরকারি রেকর্ডভিত্তিক।
3
7
CNAP কার্যকর করতে প্রতিটি টেলিকম সংস্থাকে একটি ‘কলিং নেম’ (CNAM) ডাটাবেস তৈরি করতে হবে। প্রতিটি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের যাচাইকৃত নাম। যখন কেউ ফোন করবেন, তখন রিসিভারের টেলিকম অপারেটর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেই ডাটাবেস থেকে কলারের নথিভুক্ত নাম সংগ্রহ করে গ্রাহকের স্ক্রিনে দেখাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ব্যবস্থা শুধু স্মার্টফোন নয়, সাধারণ ফিচার ফোনেও কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
4
7
TRAI সূত্রে জানা গিয়েছে, CNAP পরিষেবা সব গ্রাহকের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকবে। তবে কেউ যদি নিজের নাম অন্যের ফোনে দেখানো হোক তা না চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘অপ্ট-আউট’ করতে পারবেন।
5
7
চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে DoT দেশের একাধিক শহরে 4G ও 5G নেটওয়ার্কে CNAP-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালায়। সেখানে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়—যেমন পুরনো সফটওয়্যার প্যাচ, নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি। তবে পরীক্ষার ফলাফল সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক ছিল বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বড় টেলিকম অপারেটররা ব্যাকএন্ডে প্রয়োজনীয় সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শিগগিরই এটি দেশজুড়ে চালু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
6
7
ভারতে প্রতারণামূলক ও স্প্যাম কল একটি বড় সমস্যা। Truecaller-এর মতো অ্যাপ কিছুটা সুরাহা দিলেও তা সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয় এবং থার্ড পার্টি ডেটার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। CNAP সরাসরি সরকারি KYC-যাচাইকৃত তথ্য ব্যবহার করবে, ফলে এটি আরও নির্ভুল এবং বিশ্বাসযোগ্য হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি কলার আইডি ব্যবস্থাগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে। কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের জন্য এটি ফোন যোগাযোগে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াবে।
7
7
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে কিছু গোপনীয়তার প্রশ্নও উঠতে পারে। অনেকেই ভাবছেন, ব্যক্তিগত নাম সকলের ফোনে দেখানো হলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত থাকবে। যদিও সরকার জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য নিরাপদ টেলিকম নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং আলাদা করে কোনও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হবে না। স্প্যাম ও জালিয়াতি রুখতে এবং ফোন যোগাযোগকে আরও স্বচ্ছ করতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।