অনেক দেশ ব্যক্তিগত আয়ের উপর কোনও কর আরোপ করে না, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এর মানে হল, সেখানকার বাসিন্দারা তাদের পুরো বেতন নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। এই কারণে এই দেশগুলোকে 'করমুক্ত' বলা হয়। ফলে এইসব দেশগুলো সারা বিশ্বের পেশাদারদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই দেশগুলো কর ছাড়া কীভাবে তাদের অর্থনীতি পরিচালনা করে?
2
8
প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত ব্যয়: সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ অনেক উপসাগরীয় দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ আসে তেল ও গ্যাসের মজুদ থেকে। এই সম্পদ রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত বিপুল রাজস্ব সরকারগুলো পরিকাঠামো নির্মাণ, ভর্তুকি প্রদান এবং তাদের খরচ মেটাতে ব্যবহার করে। তাই নাগরিকদের কাছ থেকে আয়কর সংগ্রহের কোনও প্রয়োজন হয় না।
3
8
করমুক্ত, তবে পুরোপুরি নয়: এই দেশগুলো পুরোপুরি করমুক্ত নয়। তারা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), কর্পোরেট কর এবং আবগারি শুল্কের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রাজস্ব আয় করে। এর মানে হল, কোম্পানি এবং পণ্যের উপর কর আরোপ করা হয়, কিন্তু ব্যক্তির বেতনের উপর নয়। এই মডেলটি এই দেশগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগ এবং পেশাদারদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কম করের কারণে রিয়েল এস্টেট, পর্যটন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে।
4
8
দুবাইতে কর নেই, কিন্তু খরচ অনেক বেশি: দুবাই এবং আবুধাবির মতো সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শহরগুলো করমুক্ত আয় এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের জন্য পরিচিত, কিন্তু এখানে জীবনযাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নীতিন কৌশিক এক্স-এ লিখেছেন যে, দুবাইতে একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে ১.৫ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ভারতে একই ধরনের বাড়ির ভাড়া ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা। এক লিটার দুধের দাম ১২০ টাকা এবং মেট্রো পাসের জন্য প্রতি মাসে ৮,৫০০ টাকা লাগে। মুম্বইতে এই কাজটি মাত্র ৩৫০ টাকায় করা যায়। এর মানে হল, কর সাশ্রয়ের সুবিধাগুলো ব্যয়বহুল জীবনযাত্রার কারণে নষ্ট হয়ে যায়।
5
8
চাকরির নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থিক বিশেষজ্ঞ মীতিন কৌশিক ব্যাখ্যা করেছেন যে, দুবাইতে চাকরি হারানোর অর্থ হল ভিসা হারানো। যদি কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, তবে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বা দেশ ছাড়ার জন্য তার হাতে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় থাকে। অনেক কোম্পানি কোনও নোটিশ ছাড়াই পুরো টিমকে বরখাস্ত করে দেয় এবং ভারতের মতো কোনও আইনি সুরক্ষা সেখানে নেই। তিনি বলেন, "যখন ছাঁটাই হয়, তখন কোনও ক্ষতিপূরণ বা আইনি সুরক্ষা ছাড়াই পুরো বিভাগকে একবারে বরখাস্ত করা হয়।"
6
8
ধনীদের জন্য করমুক্ত, গরিবদের জন্য কঠিন: এই করমুক্ত ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে ধনীদের জন্য উপকারী, কিন্তু গরিবরা কম বেতনে পরোক্ষ করে জেরবার। রেডিটে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে কোনও কর নেই, কিন্তু গরিবরা কম বেতনের মাধ্যমে এর মূল্য দেয়।" সেখানকার শ্রমিকদের বেতন খুবই কম, অথচ কাজের সময় দীর্ঘ এবং ওভারটাইমের জন্য কোনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। অনেক খাতে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ চলে এবং কর্মজীবনের ভারসাম্য বলে কিছু নেই।
7
8
‘দুবাই স্বপ্ন’ সবার জন্য নয়: নীতিন কৌশিক বলেন যে, দুবাইতে বসবাস করাটা ভুল না হলেও, এটি সবার জন্য নয়। যদি কারোর ভাল দক্ষতা, একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং কিছু সঞ্চয় থাকে, তবে সেখানে চমৎকার কর্মজীবন এবং উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু ‘দুবাই স্বপ্নের’ পেছনে ছুটবেন না। ঝুঁকিগুলো বুঝুন, প্রস্তুতি নিন এবং তারপর পদক্ষেপ করুন।"
8
8
অন্যান্য করমুক্ত দেশগুলোতেও পরিস্থিতিও একই রকম: মোনাকো, বারমুডা এবং বাহামাসের মতো অনেক দেশেও আয়কর নেই, কিন্তু সেগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। মোনাকোতে রিয়েল এস্টেটের দাম এতটাই বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব। সব মিলিয়ে, করমুক্ত দেশগুলোতে বসবাস করা বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ নয়।