দুর্গাপুজোর বাকি মাত্র আর কয়েকটি দিন। তার আগে বঙ্গোপসাগরে ফের তৈরি হচ্ছে দুর্যোগের পরিস্থিতি। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
2
9
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে।
3
9
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। এর কেন্দ্র ছিল অক্ষাংশ ১৭.৭ ডিগ্রি উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮৭.৮ ডিগ্রি পূর্বে।
4
9
সেই সময় এটি পুরী থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, গোপালপুর থেকে ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপটনম থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার পূর্বে।
5
9
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। পরবর্তীতে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
6
9
এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গেও। ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
7
9
তবে ২৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে পুজোর আগের এই সময়ে বৃষ্টি নতুন করে ভোগান্তি বাড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা।
8
9
বঙ্গোপসাগরের এই ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে এই ঘূর্ণাবর্তের কেন্দ্র পর্যন্ত একটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখাও অবস্থান করছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
9
9
আগামী কয়েকদিন বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর উপকূলবর্তী এলাকা এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকা মৎস্যজীবিদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।