কেউ অপমান করলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কীভাবে জবাব দেবেন? রইল বিশেষজ্ঞদের ৫ পরামর্শ
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৮ মে ২০২৬ ২০ : ১০
শেয়ার করুন
1
10
জীবনে চলার পথে অপমান, রূঢ় মন্তব্য বা তাচ্ছিল্যের মুখোমুখি হতে হয় কমবেশি সকলকেই। এমন মুহূর্তে রাগে ফেটে পড়া ভুল। আবার চুপ করে সহ্য করাও আত্মসম্মানের পরিপন্থী৷
2
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু সেই আচরণের জবাব কীভাবে দেবেন তা সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে। রইল পাঁচটি কার্যকর উপায়।
3
10
কেউ অপমান করলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না৷ এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। লম্বা শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড থামুন। এই সামান্য বিরতিটুকুই আবেগের বিস্ফোরণ সামলে যুক্তি এবং বুদ্ধি দিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়৷
4
10
কখনও কখনও নীরবতাই সবচেয়ে জোরালো জবাব। সরাসরি চোখে তাকিয়ে, ঠোঁটে এক চিলতে শান্ত হাসি রেখে কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকুন। এই সচেতন নীরবতা সামনের মানুষটিকে তাঁর নিজের কথার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়; অনেক সময় তিনি নিজেই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।
5
10
কেউ কটূ বা অবমাননাকর কিছু বললে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করুন, “আপনি কি বললেন, আর একবার বলবেন?”
6
10
বেশির ভাগ মানুষ নিজের রূঢ় কথা দ্বিতীয়বার বলতে গিয়ে থমকে যান, সুর নরম করেন, কখনও বা পিছিয়ে আসেন। এই কৌশল সামনের জনের আসল উদ্দেশ্য বুঝে নেওয়ার সময়ও দেয়।
7
10
জবাব দিন স্পষ্ট ও সরাসরি। তবে আক্রমণাত্মক নয়। শিরদাঁড়া সোজা, দৃষ্টি স্থির রেখে অল্প কথায় নিজের বক্তব্য বলুন। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটাক্ষ বা চিৎকার করবেন না৷ কেবল ঘটনা আর নিজের অনুভূতির কথা বলুন। এই ‘অ্যাসারটিভ’ ভঙ্গিই আপনার সীমারেখা স্পষ্ট করে দেয়।
8
10
মনে রাখবেন, কেউ যেভাবে আচরণ করেন, তা প্রায়শই তাঁর নিজের সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন। তাই অপমানকে কখনও নিজের মনের মধ্যে পুষে রেখে নিজের শরীর বা মনের ক্ষতি করবেন না৷
9
10
উল্টোদিকে থাকা ব্যক্তি অসৌজন্য দেখিয়েছে বলেই আপনাকেও তাঁর মতো রুচিহীনতার পরিচয় দিয়েই অপমানের জবাব দিতে হবে তা নয়। প্রয়োজনে পরে শান্তভাবে সেই ব্যক্তিকে জানান, তাঁর আচরণ সীমা অতিক্রম করেছে।
10
10
বাঙালি সংস্কৃতিতে মান-সম্মান চিরকালই মূল্যবান। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, প্রকৃত শক্তি বাইরের প্রতিক্রিয়ায় নয়, ভিতরের স্থিরতায়। অপমানের জবাবে যিনি শান্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন, আসলে জয়ী হন তিনিই।