পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবায় এক বিরাট পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। মোবাইল রিচার্জের আদলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিন এবার প্রায় চলেই এল।
2
20
দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
3
20
এদিকে নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের শেষ নেই। অনেকেরই আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার ফলে বিদ্যুৎ বিল মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাবে
4
20
রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করতেই এই প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন।
5
20
সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ কোটি এই ধরনের আধুনিক মিটার বসানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। মূল লক্ষ্য হলো, বিদ্যুৎ বন্টন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করে তোলা।
6
20
ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ বন্টনকারী সংস্থা ‘WBSEDCL’ বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, সরকারি অফিস এবং কিছু আবাসিক এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ স্মার্ট মিটার বসিয়ে ফেলেছে। আগামী জুলাই মাস থেকে ব্যাপক স্তরে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি এই মিটার লাগানোর কাজ শুরু হবে।
7
20
এই বিপুল খরচের বোঝা যাতে গ্রাহকদের ওপর একবারে না পড়ে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি মিটারে ৯০০ টাকা করে অনুদান দেবে। বাকি খরচের জন্য গ্রাহকদের আগামী ৯১ মাস ধরে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে দিতে হবে।
8
20
প্রচলিত পুরনো মিটারের তুলনায় এই স্মার্ট মিটারগুলি প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত।
9
20
এই মিটারগুলি প্রতি মুহূর্তের বিদ্যুৎ খরচের নিখুঁত হিসাব দেখাতে পারে।
10
20
তারযুক্ত বা তারবিহীন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই মিটারগুলি সরাসরি মূল পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে গ্রাহক কতটা বিদ্যুৎ খরচ করছেন, সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ দপ্তর ও গ্রাহকের মোবাইল অ্যাপে পৌঁছে যায়।
11
20
আগে বাড়িতে লোক না থাকলে বিদ্যুৎ কর্মীরা আনুমানিক বা গড় বিল পাঠাতেন। তাতে অনেক সময় গ্রাহকদের লোকসান হতো। এখন আর মিটার রিডারের সশরীরে আসার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে ভুল বিল আসার কোনও সুযোগই থাকছে না।
12
20
নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কৌতুহল থাকলেও, আমজনতার একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও আশঙ্কাও কম নয়। ইতিমধ্যেই যেখানে এই মিটার বসেছে, সেখানকার অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ- আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
13
20
একাংশের দাবি, শুধু ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম ই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মিটারের নির্দিষ্ট ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাট। এই সব মিলিয়েই সামগ্রিক বিলের অঙ্কটা বেশ চড়া ঠেকছে।
14
20
নতুন প্রি-পেইড ব্যবস্থার নিয়ম হলো- আগে টাকা, পরে বিদ্যুৎ। মোবাইলের ব্যালেন্স শেষ হলে যেমন কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়, এখানেও টাকা ফুরোলেই বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাবে।
15
20
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিতে মাসের শেষে যখন আর্থিক টানাপোড়েন থাকে, তখন এই ব্যবস্থা বড় বিপত্তি ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
16
20
গভীর রাতে বা কোনও জরুরি দরকারে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। তাছাড়া, এই মিটারগুলি সাধারণ মিটারের চেয়ে বেশি দ্রুত ঘোরে বলেও একটি সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে।
17
20
গ্রাহকদের এই সমস্ত অভিযোগ এবং বিল বেশি আসার আশঙ্কা অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর।
18
20
স্মার্ট মিটার দ্রুত ঘোরে- এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই মিটারগুলি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি। তাই এটি নিখুঁত।
19
20
সাধারণ মিটারে যেভাবে ইউনিট গণনা করা হতো, এখানেও নিয়ম একই। বরং ডিজিটাল স্ক্রিন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহক নিজেই নিজের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
20
20
বিল বেশি আসার কারণ মিটারের ত্রুটি নয়, বরং নিজেদের গাফিলতি। দপ্তরের আশা, রাজ্যজুড়ে এই প্রথা পুরোপুরি চালু হলে তা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আরও সচেতন করে তুলবে এবং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনবে।