হার্ট অ্যাটাককে অনেকেই পুরুষদের রোগ বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে মহিলাদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
2
10
মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় পুরুষদের মতো স্পষ্ট হয় না। তাই অনেকেই উপসর্গ বুঝতে না পেরে দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান।
3
10
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।
4
10
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি: সারাদিনের কাজের পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও বিশেষ কারণ ছাড়াই যদি কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে সতর্ক হতে হবে। অনেক মহিলা জানান, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে সাধারণ কাজ করতেও তাঁদের খুব কষ্ট হতো। এমনকি বিছানা গুছানো, রান্না করা বা অল্প হাঁটাচলাতেও শরীর ভেঙে পড়ার মতো অনুভূতি হতে পারে।
5
10
২. চোয়াল, ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা: হার্টের সমস্যা মানেই শুধু বুকব্যথা নয়। অনেক সময় ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ বা পিঠের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ব্যথা হঠাৎ শুরু হতে পারে এবং এর কোনও স্পষ্ট কারণ নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে যদি ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টও থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
6
10
৩. শ্বাসকষ্ট: আগে সহজেই যে কাজ করতে পারতেন, এখন তা করতে গিয়ে যদি হাঁপিয়ে যান বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় বুকব্যথা না থাকলেও শুধুমাত্র শ্বাসকষ্টই হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।
7
10
৪. বমি বমি ভাব বা বদহজম: হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেক মহিলার বমি বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে সাধারণ গ্যাস বা হজমের সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু যদি হঠাৎ এমন উপসর্গ দেখা দেয় এবং বারবার হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
8
10
৫. বুকে চাপ বা অস্বস্তি: হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হল বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতি। বুকের মাঝখানে কেউ যেন চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে এমন অনুভূতি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া, টান ধরা বা অস্বস্তিও দেখা যায়। এই অনুভূতি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে বা বারবার ফিরে আসতে পারে।
9
10
কেন সতর্ক থাকা জরুরি? মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে তা সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয় এবং ঝুঁকি বেড়ে যায়।
10
10
অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, চোয়ালে ব্যথা বা বুকে চাপের মতো উপসর্গকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।