গত ছয় মাসে ভারতে সোনার যাত্রা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রথমবারের মতো ১.৩০ লাখ টাকারও ওপর উঠেছিল—যা একসময় কল্পনাতীত ছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ১.২০ লাখ টাকার কাছাকাছি রয়েছে।
2
16
কিন্তু এই বাড়বাড়ন্ত শুধু বাজারের পরিসংখ্যানই বদলায়নি, ভারতীয়দের সোনা-সংক্রান্ত মনোভাব ও বিনিয়োগ আচরণকেও গভীরভাবে বদলে দিয়েছে।
3
16
অনেক বছর ধরে একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াত—“সোনা কি সত্যিই এক লাখ ছুঁবে?” কিন্তু সেই মনস্তাত্ত্বিক বাধা ভাঙার পর বাজারের মনোভাব পাল্টে যায়। দাম বাড়লে সাধারণত চাহিদা কমে, কিন্তু এবার হয়েছে উল্টোটা।
4
16
দাম বাড়তেই মানুষ সোনা কেনার দিকে আরও ঝুঁকেছে। দীপাবলির পরের প্রবণতা দেখায় যে সোনায় বিনিয়োগের আগ্রহ পূর্বের তুলনায় আরও বেড়েছে।
5
16
একসময় সোনা মূলত কেনা হতো গয়না, উপহার বা রীতিনীতি পালন করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু যখন সোনার দাম ৭০,০০০–৭৫,০০০ টাকার গণ্ডি পেরোতে শুরু করল, তখন থেকেই ভোক্তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়।
6
16
আরও বেশি মানুষ সোনার বার, কয়েন এবং ডিজিটাল গোল্ড কেনা শুরু করেন—অলঙ্কারের জন্য নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে। আবেগী কেনাকাটা থেকে কৌশলগত সম্পদ বরাদ্দের এই রূপান্তর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
7
16
এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকা শক্তি হল ডিজিটাল গোল্ড। খুব অল্প টাকায়—কখনও ৫০ বা ১০০ টাকা, এমনকি ১ টাকার থেকেও—সোনা কেনার সুবিধা সাধারণ মানুষের মনে নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে।
8
16
দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল গোল্ডের প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। একই সঙ্গে গুগল পে, ফোনপে–র মতো জনপ্রিয় পেমেন্ট অ্যাপ ডিজিটাল গোল্ডকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। মোবাইল ফোনে কয়েকটি ট্যাপেই সোনা কেনা, বেচা ও সংরক্ষণের সুবিধা তরুণ প্রজন্মকে দ্রুত এই পথে আকৃষ্ট করেছে।
9
16
মিডিয়া সচেতনতা এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। আর্থিক সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফিনটেক ব্লগ—সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল গোল্ডের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিয়ে বিস্তর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভোক্তারা শুধু সোনা কিনছেন না, বরং জেনে–বুঝে বিনিয়োগ করছেন।
10
16
ডিজিটাল যুগে বড় হওয়া প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল গোল্ড একদিকে যেমন নির্ভরযোগ্য, অন্যদিকে তেমনই অত্যন্ত সুবিধাজনক। তারা সোনাকে এখন একধরনের SIP (Systematic Investment Plan) হিসেবেও দেখছেন।
11
16
একটু একটু করে, নিয়মিতভাবে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ হিসাবে। এককালীন বড় অঙ্ক খরচ না করে দীর্ঘমেয়াদে সোনা জমা করার এই পদ্ধতি তরুণদের মধ্যে দারুণভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
12
16
এছাড়া গোল্ড ETF–এর উত্থানও সোনার বিনিয়োগের এই নতুন ধারা প্রমাণ করে। অনেকে এখন সোনাকে তিনভাবে ধরে রাখছেন—শারীরিক, ডিজিটাল এবং বাজার-সংযুক্ত ETF আকারে।
13
16
এই ‘হাইব্রিড’ বিনিয়োগ পদ্ধতি ভারতীয় বিনিয়োগকারীর ক্রমবর্ধমান আর্থিক পরিপক্কতাকে প্রতিফলিত করে। আবেগের কারণে হাতে সোনা রাখার ইচ্ছা যেমন আছে, তেমনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তারল্য ও নমনীয়তাও মানুষ কাজে লাগাচ্ছেন।
14
16
উৎসবের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যে বিষয়টি স্পষ্ট—ভারতীয়দের সোনার সঙ্গে সম্পর্ক বদলাচ্ছে। উত্তরাধিকারী গয়না থেকে বিনিয়োগ বার, শারীরিক কয়েন থেকে ভার্চুয়াল সোনা—সবই এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
15
16
সোনা এখনও ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পদ, কিন্তু সেটি কেনার ধরণ বদলে গেছে। মানুষ এখন সোনা কিনছেন সচেতনভাবে, পরিকল্পিতভাবে এবং ডিজিটালভাবে।
16
16
সোনা চিরকাল ‘নিরাপদ সম্পদ’ ছিল, কিন্তু ডিজিটাল ভারতের যুগে এটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।