বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান। সেই তালিকায় সোনা ও রুপো বরাবরই শীর্ষে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাজারচিত্র যেন সেই চেনা ধারার ঠিক উল্টো।
2
10
যুদ্ধ পরিস্থিতি চললেও সোনার দাম কমেছে প্রায় ২,৫০০ এবং রুপোর দর ধসেছে প্রায় ৮,০০০। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি আর ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে কাজ করছে না এই মূল্যবান ধাতু?
3
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাধারণত ডলারের বিপরীতে ওঠানামা করে।
4
10
ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রাধারী বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়। বর্তমানে ডলারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সোনার উপর চাপ তৈরি হয়েছে।
5
10
দ্বিতীয়ত, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখে, তাহলে সুদবাহী সম্পদ—যেমন বন্ড বা ফিক্সড ইনকাম ইনস্ট্রুমেন্ট—বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সোনা বা রুপো কিন্তু কোনও সুদ দেয় না, ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে এগুলির চাহিদা কমে যেতে পারে।
6
10
তৃতীয়ত, প্রফিট বুকিং বা লাভ তোলা। যুদ্ধ শুরুর সময় সোনা ও রুপোর দাম দ্রুত বেড়ে যায়। অনেক বিনিয়োগকারী তখন লাভ তুলতে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। এর ফলে দাম স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নেমে আসে। অর্থাৎ, বর্তমান পতনকে অনেকেই ‘কারেকশন’ হিসেবেই দেখছেন।
7
10
চতুর্থত, বাজারের মনোভাব বা ‘রিস্ক সেন্টিমেন্ট’-এর পরিবর্তন। যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকলেও যদি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বা বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে না, তাহলে তারা আবার শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। এতে নিরাপদ সম্পদ থেকে টাকা বেরিয়ে যায়।
8
10
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বিপুল পরিমাণ সোনা কিনেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই কেনাকাটার গতি কিছুটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা বাজারে চাহিদার উপর প্রভাব ফেলছে।
9
10
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ থাকলেই যে সোনা-রুপোর দাম বাড়বেই—এই ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। বিশ্বের অর্থনীতি, মুদ্রানীতি, ডলারের শক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব—সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হচ্ছে এই ‘সেফ হেভেন’ সম্পদের ভবিষ্যৎ।
10
10
তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রচলিত ধারণার উপর নির্ভর না করে, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এখানে নিজের মতো করে বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।