সাল ১৯৭৮। সামরিক শাসন এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয় আসে এমন এক সময়ে, যখন দেশটি জর্জ রাফায়েল ভিদেলার সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। মানবাধিকার সংগঠন এবং ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, সেই বিশ্বকাপকে সামরিক সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যখন দেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নির্যাতন এবং অসংখ্য মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছিল।
2
12
এছাড়াও বিতর্কের কাঁটা বিঁধেছিল সেবার। পেরুর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬-০ জয়কে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। ফাইনালে উঠতে আর্জেন্টিনার অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জয় প্রয়োজন ছিল।
3
12
রাজনৈতিক চাপ বা পর্দার আড়ালে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল। যদিও ম্যাচ গড়াপেটার কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।
4
12
সামরিক শাসনের মধ্যেও বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ফিফারও সমালোচনা করা হয়।
5
12
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ১৯৭৮ সালের খেতাবের উপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, মাঠের ফুটবল নয়।
6
12
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ দিয়েগো মারাদোনার বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই ম্যাচে 'ঈশ্বরের হাত'-খ্যাত গোল। অন্যদিকে শতাব্দীর সেরা গোল।
7
12
দিয়েগো মারাদোনার অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত বিশ্বকাপ অভিযান হিসেবেও বিবেচিত হয়।
8
12
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এখনও চায়ের পেয়ালায় তুফান ওঠে। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জেতে। শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।
9
12
২০২২ সালের বিশ্বকাপ লিও মেসির বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার তৃতীয় খেতাব জয়কে ঘিরে ১৯৭৮ বা ১৯৮৬ সালের মতো বড় অভিযোগ না থাকলেও কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল।
10
12
টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা একাধিক পেনাল্টি পাওয়ায় কিছু সমালোচক রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
11
12
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে উভয় পক্ষই রেফারিং এবং খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেও, পরিকল্পিত সুবিধা বা প্রভাব খাটানোর কোনও প্রমাণ কখনও পাওয়া যায়নি।
12
12
তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়কে ঘিরে ওঠা বিতর্কগুলো মূলত মতামত ও বিতর্কের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৭৮ বা ১৯৮৬ সালের মতো গুরুতর ঐতিহাসিক বিতর্কের সঙ্গে তার তুলনা চলে না।