ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই এক চরম উন্মাদনা। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিশ্বের মানচিত্রে এমন একটি শহর রয়েছে যাকে ফুটবলের অফিশিয়াল ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাপিটাল’ বা বিশ্বকাপের বিশ্বজনীন রাজধানী বলা হয়?
2
8
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই কিংবদন্তি— পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনা-র জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগাথা জড়িয়ে রয়েছে এই শহরেরসঙ্গেই । আর আজ, ১১ই জুন, ২০২৬ সেই ঐতিহাসিক শহরেই বসতে চলেছে ফুটবলের মেগা আসর ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচ!
3
8
ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিসংবাদিত ও অনন্য মুকুটটি রয়েছে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি-র মাথায়। কেন এই শহরকে ফুটবলের বিশ্ব-রাজধানী বলা হয়? জেনে নিন দুরন্ত কিছু ইতিহাসের গপ্প -
4
8
১. এস্তাদিও আজতেকা: ইতিহাসের একমাত্র ‘ত্রিমুকুট’ বিজয়ী স্টেডিয়াম
মেক্সিকো সিটিকে ‘বিশ্বকাপের রাজধানী’ বানানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ওঁর ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম এস্তাদিও অ্যাজটেকা (Estadio Azteca)-র। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে এটি তিন-তিনটি ফিফা বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজন করার অভাবনীয় রেকর্ড গড়ল। ৮৭,০০০-এরও বেশি দর্শক আসন বিশিষ্ট এই আইকনিক স্টেডিয়ামেই আজ (১১ই জুন, ২০২৬) মেক্সিকো জাতীয় দলের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাযুদ্ধ। বিশ্বের আর কোনও স্টেডিয়ামের এই অনন্য কীর্তি নেই।
5
8
২. ১৯৭০: পেলের সাম্বা ম্যাজিক ও মেক্সিকান ওয়েভ
১৯৭০ সালে মেক্সিকো সিটির এই এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামেই ফুটবল সম্রাট পেলে ও ওঁর মায়াবি ব্রাজিল দল ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি জয় করেছিল। সেই ম্যাচে ব্রাজিলের সেই নান্দনিক ফুটবল এবং গ্যালারিতে দর্শকদের বিশ্বখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ ফুটবল সংস্কৃতিকে চিরদিনের মতো বদলে দিয়েছিল।
6
8
৩. ১৯৮৬: মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো সিটি আবারও ফুটবল ইতিহাসের সেরা মুহূর্তের সাক্ষী হয়। এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই আর্জেন্টিনার রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঁর সেই বিখ্যাত ও বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ৬ জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ (Goal of the Century) করেছিলেন। পরবর্তীতে এই মাঠেই ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছিলেন মারাদোনা।
7
8
২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটির হাই-ভোল্টেজ সূচী
ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম এই মেগা-সিটি প্রাচীন অ্যাজটেক ঐতিহ্য ও আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত মেলবন্ধন। ২০২৬ সালের এই মেগা বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটি মোট ৫টি ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে:
৩টি ম্যাচ: গ্রুপ পর্বের (যার মধ্যে আজকের উদ্বোধনী ম্যাচটি অন্তর্ভুক্ত)
১টি ম্যাচ: রাউন্ড অফ ৩২
১টি ম্যাচ: রাউন্ড অফ ১৬
8
8
ইতিহাস, ঐতিহ্য, পেলে-মারাদোনার আবেগ আর ফুটবল উন্মাদনার এমন ককটেল পৃথিবীর আর কোনো শহরে মেলা ভার। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্ব সশ্রদ্ধচিত্তে মেক্সিকো সিটিকে ডাকেন— ‘দ্য গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাপিটাল’!