প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পেতে দেরি হলে এবার থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও জবাবদিহি করতে হতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কর্মীর পিএফ দাবি নিষ্পত্তিতে ৩৫ দিন দেরি করার জন্য ইপিএফও-কে ৬ শতাংশ বার্ষিক হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিল ভোক্তা আদালত। মুম্বইয়ের মুম্বই সাবার্বান ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন এই নির্দেশ দিয়েছে।
2
11
মামলার সঙ্গে যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পিএফ দাবির পরিমাণ ছিল ১৪,০৬,২৭২ টাকা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই টাকা মেটাতে না পারার কারণে ৯ নভেম্বর ২০১৬ থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বিলম্বের সময়ের জন্য ৬ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
3
11
মামলার অভিযোগকারীর দাবি, তিনি ১৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ সম্পূর্ণ পিএফ দাবি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইপিএফও সেই দাবি নিষ্পত্তি করেনি।
4
11
ইপিএফও অবশ্য আদালতে ভিন্ন যুক্তি দেয়। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, মূল দাবির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘জয়েন্ট ডিক্লেরেশন’ জমা দেওয়া হয়নি।
5
11
সেই কারণে ৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে কাগজপত্র ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ইপিএফও-র দাবি ছিল, সম্পূর্ণ নথিপত্র তারা ২ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে পায়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর দাবি নিষ্পত্তি করা হয়। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ নথি পাওয়ার পর ২০ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে।
6
11
তবে ইপিএফও-র এই যুক্তি গ্রহণ করেনি ভোক্তা কমিশন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ১৯ অক্টোবর জমা দেওয়া দাবিটি অসম্পূর্ণ ছিল—এমন প্রমাণ দেওয়ার মতো কোনও লিখিত প্রত্যাখ্যানপত্র বা ঘাটতির বিষয়ে অভিযোগকারীকে পাঠানো কোনও কিছুই তারা আদালতে পেশ করতে পারেনি।
7
11
কমিশন জানিয়েছে, নথিতে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর ২০১৬-তেই পিএফ দাবিটি অসম্পূর্ণ ছিল বলে ইপিএফও সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাবিটি নিষ্পত্তি করা তাদের দায়িত্ব ছিল।
8
11
EPF Scheme, 1952 অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পিএফ দাবি নিষ্পত্তি করার কথা। সেই সময়সীমা মেনে না চলার ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে তাঁর প্রাপ্য টাকা পেতে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে কমিশন মনে করেছে। এই কারণেই পরিষেবায় গাফিলতি হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছয় আদালত।
9
11
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪,০৬,২৭২ টাকার দাবির ক্ষেত্রে ৯ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ৩৫ দিনের বিলম্বের জন্য ৬ শতাংশ বার্ষিক হারে সুদ দিতে হবে। নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ইপিএফও-কে ৪৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
10
11
এই মামলার নির্দেশ পিএফ গ্রাহকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিএফ বা অবসরকালীন সঞ্চয়ের দাবি নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিষেবার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।
11
11
বিশেষ করে কোনও দাবি অসম্পূর্ণ বা নথিতে ঘাটতি থাকার কারণে আটকে গেলে, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।