এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও) অবসর গ্রহণের পর যোগ্য সদস্যদের নিয়মিত মাসিক পেনশন প্রদানের লক্ষ্যে 'এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম' (ইপিএস) পরিচালনা করে। ১৯৯৫ সালের ১৬ নভেম্বর চালু হওয়া এই প্রকল্পটি ১৯৭১ সালের 'ফ্যামিলি পেনশন স্কিম'-এর স্থলাভিষিক্ত হয় এবং কর্মীদের চাকরির মেয়াদ ও বেতনের ওপর ভিত্তি করে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।
2
11
যেখানে আগের 'ফ্যামিলি পেনশন স্কিম'-এ মূলত সদস্যের মৃত্যুর পর পরিবারকে সুবিধা দেওয়া হত, সেখানে ইপিএস-এর পরিধি আরও বাড়নো হয়েছে। এর আওতায় ইপিএফও সদস্য ছাড়াও তাদের পরিবার এবং মনোনীত ব্যক্তিরা (নমিনি) পেনশনের সুবিধা পান। সংগঠিত খাতের কর্মীদের অবসরের পর আয়ের একটি স্থিতিশীল উৎস নিশ্চিত করার জন্যই এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
3
11
ইপিএস পেনশনের জন্য যোগ্য হতে হলে ইপিএফও সদস্যদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। তাদের অন্তত ১০ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করতে হবে, ইপিএফও-তে নিবন্ধিত হতে হবে এবং চাকরির পুরো সময়জুড়ে পেনশন স্কিমে নিয়মিত অবদান রাখতে হবে। পেনশন পাওয়ার সাধারণ বয়সসীমা হল ৫৮ বছর।
4
11
ইপিএফও-এর আওতাভুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলেই একজন কর্মী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পের সদস্য হয়ে যান। প্রতি মাসে কর্মীর বেতনের একটি অংশ ইপিএফ এবং ইপিএস-এ জমা করা হয়। এই অবদানগুলো অবসরের জন্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং একই সঙ্গে পেনশনের সুবিধা ও জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে।
5
11
ইপিএফ সদস্যরা প্রতি মাসে তাদের মূল বেতনের ১২ শতাংশ জমা করেন এবং নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ অর্থ জমা দেন। তবে নিয়োগকর্তার দেওয়া অংশটি দু'টি প্রকল্পের মধ্যে ভাগ করা হয়: ৮.৩৩ শতাংশ ইপিএস-এর জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
6
11
'এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম'-এর আওতায়, ১০ বছরের 'কন্ট্রিবিউটরি সার্ভিস' (অবদান-সহ চাকরির মেয়াদ) পূর্ণ করার পর এবং বয়স ৫৮ বছর হলে সদস্যরা পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন। ৫৮ বছর বয়সের পরেও যদি কেউ কাজ চালিয়ে যান, তবুও তারা পেনশন নেওয়া শুরু করতে পারেন। যারা ৫০ বছর বয়সের পর চাকরি ছেড়ে দেন, তারাও চাইলে কম হারে 'আর্লি পেনশন' বা নির্ধারিত সময়ের আগেই পেনশন নিতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে তাদের অন্তত ১০ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ থাকতে হবে।
7
11
ইপিএস-এর কিছু মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম ১০ বছরের চাকরির শর্ত, ৫৮ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার সুবিধা এবং ন্যূনতম মাসিক পেনশন ১,০০০ টাকা, যে সীমাটি ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারণ করেছিল। পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি হল এই ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করা হোক।
8
11
ইপিএস পেনশনের পরিমাণ হিসাব করা হয় সদস্যের পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ এবং অবসরের আগের শেষ ৬০ মাসের গড় বেতনের ওপর ভিত্তি করে। ইপিএফও-র সদস্যরা ইপিএফও-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে এবং 'অনলাইন সার্ভিসেস' বিভাগের অধীনে থাকা 'ইডিএলআই ও পেনশন ক্যালকুলেটর' ব্যবহার করে তাদের সম্ভাব্য পেনশনের পরিমাণ জেনে নিতে পারেন।
9
11
পেনশন ক্যালকুলেটরটি খোলার পর, সদস্যরা তাদের চাকরির বিবরণ এবং বেতনের তথ্য দিয়ে মাসিক পেনশনের হিসাব করতে পারেন। এই ক্যালকুলেটরটি ইপিএফও গ্রাহকদের বুঝতে সাহায্য করে যে, প্রয়োজনীয় বছরগুলো চাকরি সম্পন্ন করার পর তারা কত পরিমাণ পেনশন পেতে পারেন।
10
11
মাসিক পেনশন হিসাব করার সূত্রটি হল: (পেনশনযোগ্য বেতন × পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ) ÷ ৭০। এখানে 'পেনশনযোগ্য বেতন' বলতে শেষ ৬০ মাসের গড় বেতনকে বোঝায়, যার সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও কর্মীর পেনশনযোগ্য বেতন ১৫,০০০ টাকা হয় এবং তিনি ১০ বছরের চাকরি সম্পন্ন করেন, তবে তার সম্ভাব্য মাসিক পেনশন দাঁড়াবে প্রায় ২,১৪৩ টাকা।
11
11
এই উদাহরণটি দেখায় যে, ন্যূনতম ১০ বছরের চাকরি সম্পন্ন করলে একজন ইপিএফও সদস্য পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন। তবে, অবদানের সময়কাল (চাকরির মেয়াদ) যত বেশি হবে, পেনশনের পরিমাণও সাধারণত তত বেশি হবে। তাই অবসরের পরবর্তী আয়ের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি চালিয়ে যাওয়া লাভজনক।