'আজ ম্যায় উপর, আসমাঁ নীচে..’, এই গানই সত্যি হতে পারে দেশের ৭ পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে মেঘ থাকবে পয়ের নীচে
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ জুন ২০২৬ ১৫ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
17
মেঘকে ছুঁয়ে ফেলার স্বপ্ন তো অনেকেরই থাকে৷ পাহাড়ের কোলে মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে ঘুরে আসুন এই সব জায়গায়।
2
17
দার্জিলিং, উচ্চতা: প্রায় ২,০৫০ মিটার। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জায়গাটি যেন কোনো পোস্টকার্ড বা কবিতার দৃশ্যপট। আকাশ পরিষ্কার থাকলে নীচের উপত্যকাগুলোতে মেঘ জমে থাকে৷ দূরে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা সূর্যের কমলা আভায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
3
17
মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, বরফে ঢাকা হিমালয় এবং চা বাগানের জন্য পরিচিত দার্জিলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যোদয় দেখার জন্য 'টাইগার হিল' হল আদর্শ জায়গা। তিব্বতি মঠ, কুয়াশা চিরে চলা সেই পুরোনো 'টয় ট্রেন', ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা তাজা চা-পাতার সুবাস। এটি কেবল চোখের দেখার বিষয় নয়, বরং এক পরিপূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা।
4
17
মুসৌরি: উচ্চতা: প্রায় ২,০০০ মিটার। দুন উপত্যকার ওপর অবস্থিত মুসৌরির সামনেই রয়েছে গাড়ওয়াল হিমালয় পর্বতমালা; আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে যে দৃশ্য দেখা যায়, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তবে বর্ষাকাল এবং ভোরের আলোয় মেঘের যে মায়াবী রূপ ফুটে ওঠে, তা এক কথায় অতুলনীয়।
5
17
নীচ থেকে ধেয়ে আসা মেঘে উপত্যকা যখন ভরে যায়, তখন মনে হয় যেন কোনো রূপকথার গল্পের মতো মেঘের ওপর ভেসে আছে মুসৌরি। কেম্পটি ফলস, লাল টিব্বা দর্শনীয় স্থান৷ মুসৌরির বিশেষত্ব হলো এর সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা।
6
17
কোডাইকানাল: উচ্চতা প্রায় ২,১৩৩ মিটার। কোডাইকানাল তামিলনাড়ুর সবচেয়ে বিখ্যাত হিল স্টেশন এবং পালানি পর্বতশ্রেণীর অন্যতম উচ্চতম স্থান। মেঘ দেখার জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয় কারণ এটি একটি মালভূমির ওপর অবস্থিত। পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে তৈরি ১.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ 'কোকার্স ওয়াক'-এ দাঁড়ালে নীচের উপত্যকাগুলো মেঘে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পাবেন।
7
17
পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত কোডাইকানাল শীতল আবহাওয়া উপভোগ করতে চাওয়া পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। তারকাকৃতির কোডাইকানাল হ্রদ, ব্রায়ান্ট পার্ক বোটানিক্যাল গার্ডেন, পিলার রকস এবং বিয়ার শোলা জলপ্রপাত—এসবই এই জায়গার আকর্ষণ৷
8
17
কুর্গ: উচ্চতা প্রায় ১,৫২৫ মিটার। 'ভারতের কফির ভাণ্ডার' (Coffee Bowl of India) এবং 'ভারতের সুইজারল্যান্ড'—উভয় নামেই পরিচিত। এটি এমন এক স্থান যেখানে ভোরের আলোয় কফি ও মশলার বাগানের ওপর দিয়ে কুয়াশা ভেসে বেড়ায়। বাতাসে এলাচ ও বৃষ্টির সুবাস পাওয়া যায় এবং ব্রহ্মগিরি পর্বতমালার নীচের উপত্যকায় মেঘেরা নরম সাদা চাদরের মতো এসে জমা হয়।
9
17
কূর্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'তাদিয়ান্দামোল' (Tadiyendamol) বিশেষ করে এমন এক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত, যেখান থেকে নিচে তাকালে মনে হয় যেন মেঘের এক গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণই কূর্গকে অনন্য করে তুলেছে।
10
17
কোডভা (Kodava) জনগোষ্ঠী, কফি চাষিদের পরিচালিত হোমস্টে, অ্যাবি জলপ্রপাত (Abbey Falls) এবং নামদ্রোলিং মঠ (Namdroling Monastery)—সব মিলিয়ে এটি এমন একটি গন্তব্য যা আপনাকে কেবল মনোরম দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতার চেয়েও অনেক বেশি কিছু উপহার দেয়।
11
17
মাথেরান: উচ্চতা: প্রায় ৮০০ মিটার। এটি ভারতের ক্ষুদ্রতম হিল স্টেশন হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এখানে মেঘের ঘন আস্তরণ এমনভাবে নেমে আসে যে দিনের অনেকটা সময় মাথেরান কার্যত মেঘের ভেতরেই ঢাকা থাকে।
12
17
মাথেরান একটি 'নো-ভেহিকেল জোন', এখানে কোনো যানবাহন চলাচলের অনুমতি নেই। এখানে সব জায়গায় পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশ্বের অন্যতম কোলাহলপূর্ণ শহরের এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও এখানকার নিস্তব্ধতা ও প্রশান্তি সত্যিই অসাধারণ।
13
17
নৈনিতাল: উচ্চতা প্রায় ২,০৮৪ মিটার। একটি হ্রদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নৈনিতাল উত্তরাখণ্ডের একটি ছোট শহর, যা সবুজ অরণ্যে ঢাকা খাড়া পাহাড়বেষ্টিত। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নৈনি হ্রদটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
14
17
তবে নৈনিতালকে এই তালিকায় স্থান করে দিয়েছে 'নয়না পিক' (বা 'চায়না পিক'); ২,৬১১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট এই শৃঙ্গটিই এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ স্থান। এখান থেকে মেঘের আনাগোনা দেখা যায় এবং মনে হয় যেন কুয়াশার বলয়ের মাঝে নৈনিতাল শহরটি ভেসে আছে। স্নো ভিউ-তে যাওয়ার রোপওয়ে, নৈনি হ্রদে নৌকাবিহার এবং মল রোডের পুরনো ধাঁচের দোকানপাট—সব মিলিয়ে নৈনিতালের এক অনন্য আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।
15
17
নন্দী হিলস, উচ্চতা প্রায় ১,৪৭৮ মিটার। জনশ্রুতি অনুযায়ী, নন্দী হিলস-এর নামকরণ হয়েছে এর একটি পাহাড়ের আকৃতি থেকে, যা দেখতে অনেকটা ঘুমন্ত ষাঁড়ের মতো। চোল রাজত্বকালে এটি 'আনন্দ গিরি' নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ 'আনন্দের পাহাড়'।
16
17
এখানকার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় ভোর ৫:৩০ থেকে সকাল ৮টার মধ্যে। তখন নিচের সমতল ভূমি ঘন মেঘের সমুদ্রে ঢাকা পড়ে যায় এবং নন্দী হিলস তার মাঝখানে একটি দ্বীপের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্যটি অত্যন্ত মনোরম।
17
17
টিপু সুলতান এটিকে তাঁর গ্রীষ্মকালীন আবাস হিসেবে ব্যবহার করতেন। এখানকার প্রাচীন দুর্গ, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ভোগ নন্দীশ্বর মন্দির এবং প্রাচীন ব্রহ্মাশ্রম গুহা—এই স্থানটিকে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গন্তব্য ছাড়িয়ে এক ঐতিহাসিক গুরুত্বও প্রদান করেছে।