পৃথিবীতে দিন ধীরে ধীরে দীর্ঘতর হচ্ছে—শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। অনেকেই ভাবতে পারেন, এই পরিবর্তনের পেছনে মহাজাগতিক শক্তির প্রভাব রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর জন্য মূলত দায়ী মানুষই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কমে যাচ্ছে, যার ফলে দিন সামান্য হলেও দীর্ঘ হচ্ছে।
2
10
সাধারণত, চাঁদের মহাকর্ষীয় টান এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বায়ুমণ্ডলীয় শক্তির প্রভাবে আমাদের গ্রহের ঘূর্ণন গতিতে ওঠানামা ঘটে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে চাঁদের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণন কিছুটা দ্রুত হয়েছিল, ফলে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১.২৫ মিলিসেকেন্ড কমে গিয়েছিল।
3
10
তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, দ্রুত হারে বাড়তে থাকা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ, হিমবাহ এবং পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে পৃথিবীর ভর বণ্টনেও বড় পরিবর্তন ঘটছে।
4
10
এই গলে যাওয়া জল পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে গ্রহের ভর পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। ঠিক এই পরিবর্তনই পৃথিবীর ঘূর্ণনকে ধীর করে দিচ্ছে। সহজভাবে বললে, ভর যত বেশি বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ঘূর্ণন তত ধীর হয়—যেমন একজন স্কেটার হাত ছড়িয়ে দিলে ঘূর্ণন ধীর হয়ে যায়।
5
10
এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা লেট প্লাইওসিন যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্যে এত দ্রুত পরিবর্তন এর আগে দেখা যায়নি।
6
10
গবেষণার অন্যতম লেখক জানান, ২১ শতকে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রস্তর বাড়ছে, যা পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর করছে এবং দিনের দৈর্ঘ্য বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, অতীতে এমন দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছিল কি না, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন।
7
10
গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি ১০০ বছরে পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৩৩ মিলিসেকেন্ড করে বাড়ছে। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, গত ৩.৬ মিলিয়ন বছরে এমন দ্রুত পরিবর্তনের কোনও নজির নেই।
8
10
দিনের দৈর্ঘ্যের এই দ্রুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আধুনিক জলবায়ু পরিবর্তন অন্তত ৩.৬ মিলিয়ন বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। এর পেছনে মূলত মানুষের প্রভাবই কাজ করছে।
9
10
যদিও এই পরিবর্তন এতটাই ক্ষুদ্র যে আমরা দৈনন্দিন জীবনে তা অনুভব করতে পারি না, তবে এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জিপিএস স্যাটেলাইট, মহাকাশ নেভিগেশন এবং জটিল আর্থিক নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হওয়া শুধু একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়—এটি আমাদের গ্রহের উপর মানুষের প্রভাবের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, যদি বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন আরও বাড়তে পারে।