দশেরা মানেই আলোর উৎসব, আনন্দ এবং নতুন শুরুর উদ্যাপন। অশুভ শক্তির প্রতীক রাবণের পরাজয়ের মাধ্যমে এই উৎসব বার্তা দেয় সত্য ও শুভ শক্তির জয়ের।
2
12
জীবনে এগিয়ে চলার নানা শিক্ষাও দেয় দশেরা। তবে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি আর্থিক দিকটিও মাথায় রাখা জরুরি।
3
12
বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটার আকর্ষণীয় ছাড়, মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, সুগন্ধি এবং নানা সামগ্রী কেনার সুযোগ অনেক সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করিয়ে দেয়। তার সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড ও সহজে ঋণ পাওয়ার সুবিধা যোগ হলে বাড়তে পারে আর্থিক চাপ।
4
12
তাই উৎসবের মরশুমে আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। দশেরায় খরচ সামলাতে এবং ঋণের বোঝা এড়াতে মেনে চলুন ব্যক্তিগত অর্থ পরিচালনার এই পাঁচটি নিয়ম।
5
12
মেনে চলুন ৫০-৩০-২০ বাজেটের নিয়ম: মাসিক আয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করে খরচের পরিকল্পনা করুন। আয়ের ৫০ শতাংশ রাখুন প্রয়োজনীয় খরচের জন্য, যেমন বাড়িভাড়া, বাজার এবং ঋণের কিস্তি।
6
12
৩০ শতাংশ বরাদ্দ করুন শখ ও কেনাকাটার জন্য। বাকি ২০ শতাংশ রাখুন সঞ্চয়ের জন্য। উৎসবের কেনাকাটা করতে হবে শখের খরচের বরাদ্দ থেকেই। প্রয়োজনীয় খরচ বা সঞ্চয়ের টাকা ভেঙে কেনাকাটা করা এড়িয়ে চলুন।
7
12
ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার সীমিত রাখুন: ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণসীমার ৩০ শতাংশের মধ্যে ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন। যেমন, আপনার কার্ডের ঋণসীমা ৩ লক্ষ টাকা হলে বকেয়া রাখুন ৯০ হাজার টাকার মধ্যে।
8
12
এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ক্রেডিট স্কোরের উপর চাপ কমতে পারে। তবে শুধু ঋণসীমার মধ্যে থাকলেই হবে না, সময়মতো পুরো বিল মেটানোও জরুরি।
9
12
উৎসবের কেনাকাটার বাজেট তৈরি করুন: কেনাকাটার আগে মোট খরচের সীমা নির্ধারণ করুন। কী কী কিনবেন, তার তালিকা তৈরি করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করুন। অনলাইনে ছাড় দেখেই অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন। লক্ষ্য রাখুন, উৎসব শেষে যেন ঋণের বোঝা না বাড়ে।
10
12
জরুরি তহবিলে হাত দেবেন না: চিকিৎসা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য জরুরি তহবিল থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমান টাকা আলাদা করে রাখুন। মাসিক খরচ ১ লক্ষ টাকা হলে জরুরি তহবিলে রাখুন ৩ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। উৎসবের কেনাকাটার জন্য এই টাকা ব্যবহার করবেন না।
11
12
খরচের আগেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করুন: বেতন পাওয়ার পরই সঞ্চয়, মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি (SIP) এবং অন্যান্য বিনিয়োগের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হওয়ার ব্যবস্থা করুন। এতে নিয়মিত বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসর জীবনের জন্য তহবিল গড়ে তুলতে সুবিধা হবে।
12
12
সব মিলিয়ে, দশেরার আনন্দ উপভোগ করুন পরিকল্পিত খরচের মাধ্যমে। সঠিক বাজেট, নিয়মিত সঞ্চয় এবং দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে উৎসবের আনন্দও বজায় থাকবে, পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।