সন্তান জন্মের পর মায়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি শিশুকে প্রথমবার বুকের দুধ খাওয়ানো। কিন্তু সিজারিয়ান ডেলিভারির পর অনেক মায়ের মনেই একটা ভয় থাকেঅপারেশন হয়েছে বলে কি শিশুকে দুধ খাওয়াতে দেরি হবে? শরীরে কি দুধ কম তৈরি হবে? এই ভয় থেকেই অনেক সময় নতুন মায়েরা শুরুতেই চিন্তায় পড়ে যান।
2
12
চিকিৎসকদের মতে, সিজারিয়ান ডেলিভারির পর স্তন্যপান শুরু করতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু সিজার হলেই যে মা শিশুকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন না, এমনটা একেবারেই নয়। আসল বিষয় হল, মা ও শিশুর শারীরিক অবস্থা কেমন এবং প্রসবের পর মাকে কতটা শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে সাহায্য করা হচ্ছে।
3
12
কেন সিজারের পর একটু সমস্যা হতে পারে?
সিজারিয়ান ডেলিভারির পর মায়ের শরীরে অস্ত্রোপচারের ধকল থাকে। পেটে ব্যথা থাকতে পারে, শরীর দুর্বল লাগতে পারে। অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবও কিছুটা থাকতে পারে। ফলে শিশুকে কোলে নিয়ে বসা বা বারবার অবস্থান বদলানো প্রথম দিকে কষ্টকর হতে পারে।
4
12
এই সময় পরিবারের সাহায্য খুব প্রয়োজন। নার্স বা ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এমনভাবে শিশুকে ধরতে হবে যাতে মায়ের অপারেশনের জায়গায় চাপ না পড়ে। পাশ ফিরে শুয়ে বা অন্য আরামদায়ক ভঙ্গিতে অনেক মা শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারেন।
5
12
দুধ আসতে দেরি মানেই কি সমস্যা?
অনেক মায়ের ক্ষেত্রেই প্রথম কয়েক দিনে মনে হয়, শিশুর জন্য যথেষ্ট দুধ তৈরি হচ্ছে না। কিন্তু প্রথম দিকে যে হলুদাভ ঘন দুধ তৈরি হয়, তাকে কলোস্ট্রাম বলা হয়। পরিমাণে এটি খুব বেশি না হলেও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
6
12
তাই প্রথম দিনেই বেশি দুধ না হওয়া দেখে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। শিশুকে নিয়মিত স্তনপানের চেষ্টা করা অর্থাৎ শিশু যাতে স্তন মুখে নেয় সেটা দেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি শিশু স্তনে চুষবে, ততই শরীরকে দুধ তৈরির সংকেত দেবে।
7
12
সিজারের জন্যই কি সব সমস্যা?
সবসময় নয়। প্রসবের আগে-পরে মায়ের মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, ব্যথা, ক্লান্তি এবং শিশুকে ঠিকভাবে স্তনে ধরাতে না পারা—এসব কারণও স্তন্যপানে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
8
12
বিশেষ করে জরুরি সিজারের ক্ষেত্রে মা ও শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি সামলানোই প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কখনও কখনও প্রথমবার দুধ খাওয়াতে একটু সময় লাগতেই পারে। সেটাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই।
9
12
শিশু স্তনে ঠিকভাবে মুখ বসাতে না পারলে, বারবার চেষ্টা করেও দুধ খাওয়াতে সমস্যা হলে কিংবা মা অতিরিক্ত ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করলে চিকিৎসক বা ল্যাকটেশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
10
12
প্রয়োজন হলে শিশুর feeding pattern এবং মায়ের দুধের পরিমাণও বিশেষজ্ঞ দেখে দিতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে বলে নিজের উপর চাপ তৈরি না করা।
11
12
অন্য কোনও মায়ের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনাও না করাই ভাল। প্রত্যেক মা ও শিশুর অভিজ্ঞতা আলাদা। সিজারের পর একটু বেশি সময়, একটু বেশি সাহায্য এবং একটু বেশি যত্নের প্রয়োজন হতে পারে।
12
12
কিন্তু সিজার মানেই বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যা হবে—এই ধারণা ঠিক নয়। সঠিক সহায়তা এবং ধৈর্য থাকলে সিজারের পরেও মা খুব স্বাভাবিকভাবেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।