অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে তীব্র আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’। শক্তি কিছুটা কমে ক্যাটাগরি ৪-এ নেমে এলেও ঝড়টি এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চলে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে।
2
9
ঝড়ের আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুইন্সল্যান্ডের উত্তর প্রান্তের একাধিক ছোট শহর ও উপকূলীয় বসতি থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রবল ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং জলোচ্ছ্বাস মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
3
9
আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’-এর কেন্দ্রস্থলে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে বাতাস বইছে, যা উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ঝড়টি স্থলভাগে ঢোকার পর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে, তবে এর প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও বন্যার ঝুঁকি কয়েকদিন ধরে বজায় থাকবে।
4
9
স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি পরিষেবা দলগুলি ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে। উদ্ধারকারী দল, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কর্মীরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং খাদ্য, জল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
5
9
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্যাটাগরি ৪-এর ঘূর্ণিঝড়ও অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হতে পারে। ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়া, গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া—এই ধরনের পরিস্থিতি খুবই স্বাভাবিক। পাশাপাশি, সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে উপকূলীয় এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কাও প্রবল।
6
9
কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল এমনিতেই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর গ্রীষ্মের শেষে ও বর্ষাকালে এখানে একাধিক শক্তিশালী ঝড় আছড়ে পড়ে। তবে ‘নারেল’-এর তীব্রতা এবং গতিপথ নিয়ে আগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
7
9
এদিকে, ঝড়ের কারণে বিমান ও নৌ পরিবহণে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
8
9
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ঘরের ভিতরে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
9
9
সব মিলিয়ে, ক্যাটাগরি ৪-এ নামলেও ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’ এখনও বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা। বর্তমানে সকলের নজর কুইন্সল্যান্ডের উত্তর উপকূলের দিকে, যেখানে প্রকৃতির এই তাণ্ডবের মোকাবিলায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।