গোপনে বান্ধবীর সঙ্গে ফষ্টিনষ্টি? নিমেষে 'দুষ্টু' তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে স্ত্রী! কীভাবে সতর্ক হবেন জেনে নিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২ : ৫৭
শেয়ার করুন
1
7
মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক ব্যবহারকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সম্পর্কে মেটা যে দাবি করে, তা ব্যবহারকারীদের কাছে বিভ্রান্তিকর।
2
7
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন ব্যবহারকারী এই মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন বার্তার বিষয়বস্তু কেবলমাত্র প্রেরক ও প্রাপকই দেখতে পারেন এবং সংস্থার পক্ষেও সেখানে ঢোকার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে মেটা নাকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো বার্তা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনে অ্যাক্সেস করতে পারে।
3
7
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মেটার বর্ণনা সাধারণ ব্যবহারকারীর মধ্যে এই ধারণা তৈরি করে যে সংস্থাটির পক্ষেও বার্তার ভিতরের তথ্য দেখার কোনও উপায় নেই। অথচ একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হুইসেলব্লোয়ারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মামলাকারীরা দাবি করেছেন, মেটার অভ্যন্তরে এমন কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা রয়েছে যা কার্যত এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনকে খর্ব করে।
4
7
তবে মেটা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। সংস্থার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা এনক্রিপ্টেড নয়—এমন যে কোনও দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর বক্তব্য, গত এক দশক ধরে হোয়াটসঅ্যাপ সিগনাল প্রোটোকলের মাধ্যমে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করছে এবং সংস্থার পক্ষ থেকে কোনওভাবেই বার্তার বিষয়বস্তু দেখা সম্ভব নয়। মেটার দাবি, এই মামলা ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।
5
7
প্রযুক্তিগতভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে বার্তা পাঠানোর সময় প্রেরকের ডিভাইসেই তা এনক্রিপ্ট হয় এবং শুধুমাত্র প্রাপকের ডিভাইসেই ডিক্রিপ্ট করা যায়। অর্থাৎ, তাত্ত্বিকভাবে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছেও বার্তার মূল বিষয়বস্তু পৌঁছনোর কথা নয়। মেটা জানিয়েছে, তারা যে সিগনাল প্রোটোকল ব্যবহার করে তা বিশ্বজুড়ে অন্যতম নিরাপদ এনক্রিপশন প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত।
6
7
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন মানে এই নয় যে কোনও ধরনের তথ্যই সংগ্রহ করা হয় না। বার্তার বিষয়বস্তু সুরক্ষিত থাকলেও, কে কাকে মেসেজ পাঠাচ্ছে, কতবার পাঠাচ্ছে বা কখন যোগাযোগ হচ্ছে—এই ধরনের মেটাডেটা সংস্থার হাতে থাকতে পারে।
7
7
এই মামলা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আদালত প্রথমে ঠিক করবে, মামলাটি গ্রহণযোগ্য কি না এবং সেটিকে ক্লাস অ্যাকশন হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না। প্রাথমিক স্তরেই মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে, আবার তদন্তের নির্দেশও আসতে পারে। সব মিলিয়ে, হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে এই মামলা আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে কি না, সেদিকেই এখন নজর।