পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ভারতের এক অপ্রত্যাশিত শিল্পকেও ব্যাপক প্রভাবিত করছে। ভারতের ৮৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের কনডোম উৎপাদন শিল্প ঝাঁঝ বুঝছে যুদ্ধের।
2
12
বছরে ৪০০ কোটিরও বেশি ইউনিট কনডোম উৎপাদন করে ভারতীয় কনডোম শিল্প। গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্টের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়, কাঁচামালের ঘাটতি এবং আকাশছোঁয়া উৎপাদন ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে এই ক্ষেত্র।
3
12
বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডোম উৎপাদনকারী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা লিমিটেড এবং কিউপিড লিমিটেড-সহ প্রধান সংস্থাগুলি বর্তমানে সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলা করছে।
4
12
কনডোম উৎপাদন দু’টি অপরিহার্য উপাদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এক সিলিকন তেল এবং দুই, অ্যামোনিয়া। সিলিকন তেল একটি অত্যাবশ্যকীয় পিচ্ছিলকারক পদার্থ এবং বর্তমানে এই উপাদানটির ‘প্রচণ্ড ঘাটতি’ দেখা দিয়েছে।
5
12
কাঁচা ল্যাটেক্স স্থিতিশীল করার জন্য অ্যামোনিয়া অপরিহার্য এবং যুদ্ধের ফলে এর দাম ৪০-৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্যাকেজিং উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
6
12
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কনডোম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্তা বলেন, “পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মতো প্রধান কাঁচামালের সরবরাহ সঙ্কট ও মূল্যের অস্থিরতা উৎপাদন এবং অর্ডার ডেলিভারির ওপর প্রভাব ফেলেছে।” তিনি আরও বলেন, “সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এই সমস্যাগুলো আরও বেড়েছে।”
7
12
ওই কর্তা আরও বলেন, “কনডোম উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য অ্যামোনিয়ার দাম ৪০-৫০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলিকন তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”
8
12
কর্নাটক ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের যতীশ এন শেঠ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন যে পেট্রোকেমিক্যালযুক্ত যে কোনও সামগ্রীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু শিল্পের উপর এর প্রভাবের মাত্রা ও গভীরতা আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে।”
9
12
সরকার ইতোমধ্যেই সম্পদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা শুরু করেছে। ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি মন্ত্রিসভার ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, অধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলিকে রক্ষা করার জন্য পেট্রোকেমিক্যাল সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কনডোমের মতো পণ্যের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
10
12
শিল্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই সঙ্কট শুধু একটি ব্যবসায়িক বাধা নয়, এটি একটি সামাজিক ঝুঁকিও বটে। একটি কনডোম উৎপাদনকারী সংস্থার এক কর্মচারী বলেন, “পশ্চিমি বাজারের মতো নয়, ভারত অধিক পরিমাণে উৎপাদন ও স্বল্প মুনাফার মডেলে চলে এবং এর প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে দাম কম রাখা হয়।”
11
12
তিনি বলেন, “এর ফলে সরাসরি মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মূল্যবৃদ্ধি রাজস্ব বাড়াতে পারে, তবে এতে বিক্রির সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”
12
12
তিনি আরও বলেন, “পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি পণ্যের ব্যবহারে যে কোনও ধরনের হ্রাস দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”