সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ ভারতীয় পরিবারে নতুন কোনও বিষয় নয়। ভাই-ভাই, ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ লেগেই থাকে।
2
10
মেয়ের বিয়ের পরে তাঁরা বাপের বাড়ির সম্পত্তির ভাগ পাবেন কি না? বা বাপের বাড়ির সম্পত্তির অধিকার তাঁদেরও রয়েছে কি না, এই নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে দেশের নানা আদালতে।
3
10
অনেক পরিবারই মনে করে, এত খরচ করে যখন মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন আলাদ করে তাঁর জন্য সম্পত্তির অংশ রাখা হবে কেন? এই চিন্তাধারা বদলে যেতে বাধ্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে।
4
10
দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবাহিত মেয়েকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং স্বেচ্ছাচারী। সাংবিধানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
5
10
সম্পত্তি বিবাদ সংক্রান্ত একটি মামলায় ইলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি রায় খারিজ করে গত মঙ্গলবার এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিএস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।
6
10
এক রেশন ডিলারের মেয়ের করা একটি মামলার রায়ে ইলাহাবাদ হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কমপ্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সহানুভূতি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের সংজ্ঞার আওতায় বিবাহিত মেয়েরা পড়েন না। ২০১৯ সালের একটি সরকারি আদেশে বিবাহিত মেয়েদের বাদ দেওয়া হয়েছিল।
7
10
এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন ওই মহিলা। দুই বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার জানিয়ে দেয় যে, নির্ভরশীল হিসেবে বিবাহিত কন্যাকে ‘পরিবার’ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
8
10
শীর্ষ আদালতের যুক্তি, মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের জন্যই ওই কোটা চালু করা হয়েছে এবং মেয়েরা সেই ‘পরিবারে’রই অংশ। আদালতের মন্তব্য, ছেলেরা বিয়ের পরেও পরিবারের অংশ থাকেন। কিন্তু মেয়েরা পরিবারের অংশ নন, এই ভাবনা লিঙ্গবৈষম্যের ধারা বজায় রাখে।
9
10
দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিয়ের পরে কোনও মেয়ে বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল নন, তা মনে করার কোনও কারণ নেই।
10
10
অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহিত মহিলারা বাপের বাড়িতেই থাকেন এবং বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকেন। তাই, কোনেও মানুষ বিবাহিত কি না, শুধু তার উপরই মেয়ের নির্ভরশীলতা নির্ভর করে না।