ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রচলিত কাগজের নোটের পাশাপাশি এবার প্লাস্টিকের নোটের ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার ভারতেও এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
2
13
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, RBI-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ এবং ২০ মূল্যের পলিমার নোটের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল নতুন ধরনের নোটের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং সাধারণ ব্যবহারের সুবিধা যাচাই করা।
3
13
প্লাস্টিকের নোট আসলে সাধারণ প্লাস্টিক নয়, বরং বিশেষ ধরনের পলিমার উপাদান দিয়ে তৈরি। এই উপাদান অনেক বেশি মজবুত এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের একাধিক দেশে পলিমার নোট চালু রয়েছে।
4
13
কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না, জল বা আর্দ্রতায় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম। ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নোটের গুণমান বজায় থাকে।
5
13
ভারতের মতো দেশে যেখানে গরম, আর্দ্রতা, ধুলো এবং বর্ষার মতো আবহাওয়ার কারণে কাগজের নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে পলিমার নোট কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে ছোট মূল্যের নোট যেমন ১০ এবং ২০ নোট বাজারে দ্রুত হাতবদল হয় এবং বেশি ব্যবহারের কারণে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
6
13
পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে নতুন নোট ছাপানোর খরচ কমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
7
13
জাল নোট রোধ করাও পলিমার নোট চালুর অন্যতম কারণ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি পলিমার নোটে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়।
8
13
স্বচ্ছ অংশ, বিশেষ ধরনের ডিজাইন এবং উন্নত সিকিউরিটি ফিচারের কারণে নকল করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এর ফলে বাজারে জাল নোটের প্রবেশ কমানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে এই নতুন ব্যবস্থা।
9
13
যদিও পলিমার নোট তৈরিতে বিশেষ উপাদান ব্যবহার করা হয়, তবে এর দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমে যায়। ফলে কাগজের ব্যবহারও কিছুটা কমতে পারে।
10
13
তবে পলিমার নোট ব্যবহারের পর সেগুলির পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
11
13
অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম যারা সম্পূর্ণভাবে পলিমার নোট চালু করেছে। এরপর কানাডা, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশ এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকে ভারতও শিক্ষা নিতে পারে।
12
13
আপাতত এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। RBI-এর ফিল্ড ট্রায়ালের মাধ্যমে দেখা হবে সাধারণ মানুষ এই নোট ব্যবহারে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন, এর স্থায়িত্ব কেমন এবং উৎপাদন ও ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে।
13
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের যুগেও নগদ টাকার ব্যবহার ভারতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আরও টেকসই, নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী নোট চালু করা মুদ্রা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।