মধ্য এশিয়ার টানা তিন সপ্তাহের সংঘাতের জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দে বড়সড় ঘোষণা করেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ফলে মোট বরাদ্দ এখন দাঁড়াল ৫০ শতাংশে।
2
9
যুদ্ধের শুরুতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সরকার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যাতে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের চাহিদা অগ্রাধিকার পায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে ধাপে ধাপে সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়—প্রথমে ২০ শতাংশ, এরপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়, শর্ত ছিল রাজ্যগুলিকে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
3
9
শনিবার নতুন করে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা করে কেন্দ্র জানায়, এই বাড়তি গ্যাস মূলত রেস্তোরাঁ, হোটেল, শিল্প ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, কমিউনিটি কিচেন এবং ভর্তুকিযুক্ত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলির জন্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাদের খাদ্য ও জ্বালানির সমস্যা না হয়।
4
9
তবে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ পেতে হলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তেল সংস্থার সঙ্গে নথিভুক্ত হতে হবে এবং পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে। কেন্দ্রীয় তেল সচিব রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
5
9
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। দেশের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরশিপে কোনও ঘাটতির খবর নেই এবং ডেলিভারি পরিষেবাও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আতঙ্কে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিংয়ের প্রবণতাও কমেছে। নাগরিকদের অযথা ভিড় না করে হোম ডেলিভারির ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
6
9
সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে সরকার পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক খাতে। এজন্য রাজ্যগুলিকে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব রিফাইনারি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহেও কোনও সমস্যা নেই।
7
9
প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহস্থালি পিএনজি ও সিএনজি পরিবহন খাতে পূর্ণ সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে, যদিও শিল্প খাতে প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিনের অতিরিক্ত বরাদ্দও রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে।
8
9
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সারা দেশে ৩,৫০০-র বেশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১,৪০০টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যেই কন্ট্রোল রুম ও জেলা স্তরের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
9
9
এদিকে সামুদ্রিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পশ্চিম পারস্য উপসাগর এলাকায় ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।