একুশ শতকের শেষে কি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে ভারতের উপকূলীয় শহরগুলো? সম্প্রতি 'সেন্টার ফর স্টাডি অব সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড পলিসি' (CSTEP)-এর একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট আমাদের সেই চরম বিপদের বার্তাই দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের জলস্তর যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকে মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো মেগাসিটি তো বটেই, এমনকি হলদিয়া বা মেদিনীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলের এক বিশাল অংশও জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
2
7
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারতের সমুদ্র উপকূলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বই গত তিন দশকে সবথেকে বেশি ৪.৪৪ সেন্টিমিটার সমুদ্রের গ্রাসে চলে গেছে। বর্তমানের এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ আরব সাগরের জলস্তর এক মিটারের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে মুম্বইয়ের প্রায় ২২ শতাংশ এলাকা চিরতরে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হবে। পিছিয়ে নেই আমাদের পাশের রাজ্য ওড়িশার পারাদ্বীপ কিংবা অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনমও। ছবি: সংগৃহীত
3
7
তবে চিন্তার বিষয় হলো, বিপদ শুধু বড় বড় মেট্রো শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকদের মতে, ম্যাঙ্গালুরু বা হলদিয়ার মতো টিয়ার-টু শহরগুলো অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যেই মুম্বইয়ের পাশাপাশি ইয়ানাম বা থুথুকুডির মতো জায়গার ১০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রের গ্রাসে চলে যেতে পারে। আর এই শতাব্দীর শেষে ম্যাঙ্গালুরু তার মোট আয়তনের ৩৩ শতাংশ এবং হলদিয়া বা পারাদ্বীপের মতো শহর প্রায় ২৫ শতাংশ জমি হারাতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
4
7
পশ্চিমবঙ্গের জন্য সবথেকে বড় আশঙ্কার নাম সুন্দরবন। ইউনেস্কোর এই ঐতিহ্যবাহী এলাকাটি বছরে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার করে জমি হারাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এখানকার চারটি দ্বীপ পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি কলকাতা এবং শহরতলীর জন্য নেমে আসছে দ্বিমুখী বিপদ—একদিকে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কলকাতার মেট্রোপলিটান এলাকার প্রায় দেড় কোটি মানুষ চরম বিপদের মুখে পড়বেন। ছবি: সংগৃহীত
5
7
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কলকাতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১.৫ থেকে ২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। কিন্তু বিষুবরেখা সংলগ্ন এই অঞ্চলে সমুদ্রের জলস্তর যে হারে বাড়ছে, তাতে আগামী ৭৫ বছরের মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, কার্বন নিঃসরণের বর্তমান হার বজায় থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর প্রায় ১.৯ মিটার (প্রায় ৬ ফুটের বেশি) পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে গঙ্গা ও হুগলি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত কলকাতার সিংহভাগ এলাকা লোনা জলের গ্রাসে চলে যাবে। ছবি: সংগৃহীত
6
7
শুধুমাত্র জমি হারানোই শেষ কথা নয়, লোনা জল মাটির নিচে ঢুকে পড়ায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে হলদিয়া, সুরাট বা পারাদ্বীপের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে জনজীবন ও চাষবাসের ওপর। মালদ্বীপ, টুভালু বা কিরিবাতির মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলো যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন ভারতের মতো বিশাল উপকূলরেখার দেশেও বিপদের ঘণ্টা বেজে গেছে।ছবি: সংগৃহীত
7
7
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা আর কোনও ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, লক্ষণগুলো এখনই আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট। যদি এখনই স্থানীয় প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং উপকূলবর্তী মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে, তবে আগামী দিনে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভারতের ১৭ কোটি উপকূলবর্তী মানুষের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত জলমগ্ন পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত