আজকাল ওয়েবডেস্ক: পৃথিবীতে যেমন কোটি কোটি মানুষ রয়েছেন, তেমনই রয়েছে সংস্কৃতি ভেদে বিভিন্ন ধরনের প্রথা। সব সময় সেই প্রথাগুলি বাইরে থেকে যুক্তিপূর্ণ মনে না হলেও এই ধরনের প্রথা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
2
10
১. স্কটল্যান্ডের 'ব্ল্যাকেনিং': বিয়ের কয়েক দিন আগে বর ও কনের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে আলকাতরা, ময়দা, পচা ডিম, মাছ এবং অন্যান্য নোংরা জিনিস মাখিয়ে দেয়। এরপর তাদের শহরের রাস্তায় ঘোরানো হয়। মনে করা হয়, এই প্রথা নবদম্পতিকে ভবিষ্যতের কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত করে এবং খারাপ আত্মাদের দূরে রাখে। যদিও এই প্রথা কারও কারও কাছে কুরুচিকর মনে হতে পারে, তবে এটি সাধারণত মজা এবং উৎসবের আমেজে করা হয়।
3
10
২. আফ্রিকায় বধূ অপহরণ: আফ্রিকার কিছু অঞ্চল যেমন ইথিওপিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে এখনও বধূ অপহরণের প্রথা প্রচলিত আছে। এখানে পুরুষরা দলবদ্ধভাবে কোনও মেয়েকে অপহরণ করে এবং তাকে জোর করে বিয়ে করতে বাধ্য করে। মূলত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক কারণ এবং নারীদের আইনি সুরক্ষার অভাবের জন্যই এখনও এই প্রথা চলছে। অনেক দেশে অবৈধ হলেও এটি একটি গুরুতর সমস্যা।
4
10
৩. চীনের 'ক্রন্দন মাস': চীনের কিছু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে, বিশেষ করে তুজিয়া সম্প্রদায়ে, বিয়ের এক মাস আগে কনে প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা করে কাঁদে। বিয়ের দশ দিন আগে তার মা এবং তারও দশ দিন পর তার দিদিমা হবু বউয়ের সঙ্গে যোগ দেন। এই কান্না দুঃখের প্রকাশ নয়, বরং এটি আনন্দ, পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কষ্টের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশ। কান্নার বিভিন্ন সুর বিভিন্ন আবেগ এবং আশীর্বাদ বহন করে বলে মনে করা হয়।
5
10
৪. ইন্দোনেশিয়ার শৌচাগার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ইন্দোনেশিয়ার উত্তর কালিমান্তানের তিদং সম্প্রদায়ে বিয়ের পর নবদম্পতিকে তিন দিন ও তিন রাত বাথরুম ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এমনকী তাদের খুব কম পরিমাণে খাবার ও জল দেওয়া হয় এবং কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এটি তাদের বন্ধনকে মজবুত করে এবং তাদের বিবাহিত জীবনে সৌভাগ্য নিয়ে আসে। তবে এই সময় সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ভালভাবে খেয়াল রাখে।
6
10
৫. আয়ারল্যান্ডের জুতো নিক্ষেপ: আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে বিয়েতে বর ও কনে যখন অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বা রিসেপশনে যান, তখন অতিথিরা তাদের দিকে জুতো ছুঁড়ে মারেন। যাঁর জুতো প্রথমে নবদম্পতির কাছে পড়বে বা তাদের গায়ে লাগবে, মনে করা হয় তিনিই পরবর্তীতে বিয়ে করবেন। এই প্রথার অন্য একটি রূপ হল, বর তার নতুন বাড়ির ছাদে কনের জুতো ছুঁড়ে মারে, যা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
7
10
৬. নিউজিল্যান্ডের নাক ঘষা: হংগি হল মাওরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী অভিবাদন। এক্ষেত্রে দু'জন ব্যক্তি তাদের নাক এবং কপাল একসঙ্গে স্পর্শ করে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার যা জীবনের শ্বাস এবং আত্মার মিলনের প্রতীক। বিবাহসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ও অনুষ্ঠানে এটি ঘনিষ্ঠতা ও একতার অনুভূতি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
8
10
৮. ভারতের কিছু অংশে গাছের সঙ্গে বিবাহ: ভারতের কিছু অংশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যদি কোনও মহিলার কোষ্ঠীতে মাঙ্গলিক দোষ থাকে, তাহলে পুরুষের সঙ্গে বিবাহের আগে তাকে প্রথমে একটি গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এটি 'অভিশাপ' দূর করে এবং তার ভবিষ্যৎ বিবাহিত জীবন সুন্দর করে।
9
10
৯. দক্ষিণ কোরিয়ার 'মারধর': দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু বিবাহ অনুষ্ঠানে, বিয়ের পর বরের পা একসঙ্গে বেঁধে তার বন্ধুরা লাঠি বা শুকনো মাছ দিয়ে মারে। আপাতদৃষ্টিতে বেদনাদায়ক মনে হলেও, এই প্রথাটি আসলে মজার ছলে করা হয় এবং মনে করা হয় এটি বরের শক্তি ও চরিত্র পরীক্ষা করে। এটি নবদম্পতির জন্য সৌভাগ্য নিয়ে আসে বলেও বিশ্বাস করা হয়।
10
10
১০. কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের থুতু ছিটানো: কেনিয়ার মাসাই সংস্কৃতিতে থুতু ছিটানো আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। মাসাই বিয়েতে কনের বাবা তার কপাল ও বুকের উপর থুতু ছিটিয়ে তার নতুন জীবনের জন্য আশীর্বাদ করেন। একইভাবে, বরের বাবা তার হাতে থুতু ছিটিয়ে নবদম্পতির সঙ্গে হাত মেলান। অন্যান্য সংস্কৃতিতে এটি অসম্মানজনক মনে হলেও, এই মাসাই সম্প্রদায়ে প্রথাটি গভীরভাবে প্রোথিত।