সকালের জলখাবারে ধোঁয়া ওঠা কচুরির সঙ্গে হোক কিংবা উৎসব-অনুষ্ঠানের মিষ্টিমুখ, মুচমুচে আর রসে টইটম্বুর একখানা গরম জিলিপি পেলে যেন আর কিছুই লাগে না। বাচ্চা থেকে বুড়ো—দশক পর দশক ধরে ভারতের প্রায় প্রতিটি কোণেই জিলিপি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রাচীন মিষ্টিগুলির অন্যতম।
2
6
কিন্তু প্রতিদিন যে মিষ্টিটিকে আমরা এত তৃপ্তি নিয়ে চেখে দেখি, কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে ইংরেজিতে জিলিপিকে ঠিক কী বলা হয়? নিয়মিত জিলিপির স্বাদ নেন এমন বহু মানুষের কাছেও এই প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো চট করে মাথায় আসবে না।
3
6
আমাদের চারপাশে এমন অনেক চেনা খাবার রয়েছে, যেগুলির প্রচলিত ইংরেজি প্রতিশব্দ নিয়ে অনেকেই বিশেষ মাথা ঘামান না। আন্তর্জাতিক মহলে বা ভিনদেশের খাদ্যরসিকদের কাছে জিলিপির প্যাঁচালো গড়ন ও স্বাদের কারণে একে মূলত ‘সুইট প্রেটজেল’ (Sweet Pretzel), ‘ফানেল কেক’ (Funnel Cake) কিংবা ‘সিরাপ-ফিল্ড রিং’ (Syrup-filled Ring) হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
4
6
রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে এর পরিচয় তুলে ধরা হয় ‘সিরাপ-সোকেড ক্রিস্পি ইন্ডিয়ান ডেজার্ট’ হিসেবে। অথচ এই অতি পরিচিত রসালো মিষ্টির শিকড় কিন্তু ভারতে নয়। খাদ্য গবেষক ও ঐতিহাসিকদের মতে, এর আদি জন্ম হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানে এটি পরিচিত ছিল ‘জুলাবিয়া’ বা ‘জালাবিয়া’ নামে। মধ্যযুগে পারস্য ও আরব বণিকদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে এসে সেই পদই দেশীয় রন্ধনরীতির সাথে মিশে আজকের প্রিয় ‘জিলিপি’ বা ‘জলেবি’ রূপ ধারণ করেছে।
5
6
সময়ের সাথে সাথে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জিলিপির স্বাদেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য—জব্বলপুরের খোয়া জিলিপি, মথুরার আলু জিলিপি কিংবা রাজস্থানের বিখ্যাত বড় মাপের জিলিপির স্বাদ যার প্রমাণ। মিষ্টিপ্রিয় এই খাবারের জনপ্রিয়তা এতটাই বিস্তৃত যে ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল ও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশেও এর দারুণ কদর রয়েছে।
6
6
জিলিপির প্রতি ভোজনরসিকদের এই সার্বজনীন ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব জিলিপি দিবস’। শত শত বছর পেরিয়ে দূর দেশ থেকে এসে ভারতের রসনা সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে ওঠা এই সাধারণ জিলিপির প্যাঁচে আজও লুকিয়ে রয়েছে এক অপূর্ব ঐতিহ্যের গল্প।