পেট্রলের ক্রমবর্ধমান দামের বাজারে পকেট বাঁচাতে অনেকেই নানা ফন্দি ফিকির খোঁজেন। বন্ধুমহল বা চেনা মেকানিকের মুখে হামেশাই শোনা যায় এক টোটকার কথা- দুপুরের চড়া রোদে নয়, তেল ভরতে হবে ভোরবেলা কিংবা রাতে।
2
14
যুক্তি সহজ, ঠান্ডায় তরল সংকুচিত হয়, অর্থাৎ ঘনত্ব বাড়ে। ফলে একই টাকায় নাকি বেশি জ্বালানি মেলে! শুনতে মজার লাগলেও, বিজ্ঞান কি সত্যিই এই তত্ত্বকে মান্যতা দেয়, নাকি পুরোটাই এক মস্ত গুজব?
3
14
তত্ত্বগতভাবে গরম ও ঠান্ডায় তরলের আয়তনের হেরফের হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতের পেট্রল পাম্পগুলির বাস্তব চিত্রটা আলাদা। পাম্পের তেল মজুত থাকে মাটির গভীরে।
4
14
দেশ-বিদেশের একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাইরের আবহাওয়া যতই চরম হোক না কেন, মাটির তলার তাপমাত্রায় তার আঁচ পৌঁছায় না বললেই চলে।
5
14
২৪ ঘণ্টায় সেখানে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে বড়জোর ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দুপুর ২টোই হোক বা ভোর ৬টা, আপনার গাড়ির ট্যাঙ্কে যে তেল ঢুকছে, তার তাপমাত্রা ও ঘনত্বে কোনও ফারাক থাকে না।
6
14
ভারতে জ্বালানির পরিমাপ ও গুণমান নিয়ে সরকারি নিয়ম অত্যন্ত কড়া। পেট্রল ও ডিজেলের ঘনত্ব (ডেন্সিটি) নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে।
7
14
তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও তা কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। ফলে ঘড়ির কাঁটা মেপে পাম্পে গিয়ে বাড়তি এক ফোঁটা তেল পাওয়ার আশা একপ্রকার বৃথা।
8
14
উল্টে ভোরবেলা তেল ভরার চক্করে বাড়তি যে পথ গাড়ি চালিয়ে যাবেন, তাতে জ্বালানি নষ্ট হবে বেশি।
9
14
গুজবে কান না দিয়ে পকেটের সাশ্রয় করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
10
14
ফুয়েল ইন্ডিকেটর এক-চতুর্থাংশে নামলেই তেল ভরে নিন। ট্যাঙ্ক একবারে শূন্য করে ফেললে তলানির নোংরা ফিল্টারে আটকে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
11
14
হঠাৎ ব্রেক কষা বা আচমকা অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। গাড়ির গতি রাখুন সমান্তরাল।
12
14
চাকার হাওয়া বা এয়ার প্রেশার ঠিকঠাক রাখুন। চাকার সঠিক ভারসাম্য জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রভূত সাহায্য করে।
13
14
দেশের শহরগুলিতে প্রতিদিন তেলের দামের সংশোধন হয়। দাম বাড়ার ইঙ্গিত থাকলে আগেভাগেই ট্যাঙ্ক ফুল করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
14
14
দিনশেষে, ঘড়ির কাঁটা বা আবহাওয়ার জেরে নয়, গাড়ি চালানোর সঠিক অভ্যাস আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই পারে আপনার তেলের খরচ কমাতে।