কয়েক বছর আগেও বয়স ৪০-৫০-এর দোরগোড়ায় না গেলে কোলেস্টেরলের মতো ক্রনিক অসুখ কড়া নাড়ত না। কিন্তু ইদানীং ত্রিশ ছুঁতে না ছুঁতেই শরীরে জাঁকিয়ে বসছে এই রোগ। নেপথ্যে অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া, সঠিক জীবনযাপনের অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সহ আরও অনেক কারণ।
2
9
কারণ যাই হোক না কেন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হার্টের স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। যার জন্য শুধু ওষুধ নয়, ডায়েটের উপর নজর দেওয়া জরুরি। সেই তালিকায় ডালের বেশ গুরুত্ব রয়েছে।
3
9
চিকিৎসকদের মতে, ডালে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-কে অন্ত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ডাল খেলে স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল কমে।
4
9
মুসুর ডালঃ মুসুর ডাল সহজে হজম হয় এবং এতে প্রচুর ফাইবার থাকে। এই ফাইবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত মুসুর ডাল খেলে হজমক্ষমতা ঠিক থাকে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোলেস্টেরল কমানো সহজ হয়।
5
9
মুগ ডালঃ মুগ ডাল হালকা এবং পেটের জন্য খুব ভাল। যাঁদের গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ডাল আদর্শ। এতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হার্টকে সুস্থ রাখে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
6
9
ছোলা ও চানা ডালঃ ছোলা ও চানা ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এই ডাল খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোলেস্টেরলও ধীরে ধীরে কমে।
7
9
তুর বা অরহর ডালঃ অরহর ডালেও পর্যাপ্ত ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে। নিয়মিত এই ডাল খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হয়।
8
9
একথা ঠিক যে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে নির্দিষ্ট কোনও ডাল খাওয়ার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাল খাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন ডাল রান্নায় অতিরিক্ত তেল বা ঘি ব্যবহার করবেন না, মাঝে মাঝে সেদ্ধ বা পাতলা ডাল খাওয়ার চেষ্টা করুন, ডালের সঙ্গে সবজি যোগ করলে পুষ্টিগুণ বাড়ে, প্রতিদিন অন্তত এক বাটি ডাল খাদ্যতালিকায় রাখুন।
9
9
উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খাদ্যাভ্যাস বদলানো অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত মুসুর, মুগ, ছোলা বা তুর ডাল খেলে প্রাকৃতিকভাবেই খারাপ কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব। সঙ্গে নিয়মিত হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্র থাকবে সুস্থ।